রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ।। ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ ভাইয়ের মৃত্যু, আহত ১ আমাকে হারাতে শত শত কোটি ব্যয় করা হয়েছে: শায়খে চরমোনাই ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কতা ট্রাম্পের দাবি রোববার শান্তি-চুক্তি, ইরান বলছে ভিন্ন কথা আস-সুন্নাহ দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি হুমকির মুখে: জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ শ্রেষ্ঠ স্বামী হিসেবে তিনি আমার কাছে অমর হয়ে থাকবেন সিলেটে এক সপ্তাহ ধরে খোঁজ মিলছে না মাদরাসা ছাত্র আফজালের ‘লক্ষাধিক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত’ ‘৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জট কাটাতে কাজ চলছে’

সুনামগঞ্জ-৩: ফের সংসদে যাওয়ার পথ কতটা মসৃণ শাহীনুর পাশার?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী। চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময় উপনির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এরপর একাধিকবার নির্বাচন করলেও আর সংসদে যাওয়া হয়নি। এবারও তিনি প্রার্থী হয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একসময়ের ডাকসাইটে এই নেতা চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে। সেই দল থেকেই রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। তার দল ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত হলেও এই আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির মধ্যে ‍উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে জোটের দুজন প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে বিএনপির ধানের শীষের মতো জনপ্রিয় প্রতীকের বিপরীতে কোনো প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে। 

এই আসনে মাওলানা অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী অনেক বার নির্বাচন করেছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি এই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে নির্বাচন করে সাড়ে আট হাজার ভোট পান। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে প্রায় ৬৩ হাজার ভোট পান। অল্প ভোটের ব্যবধানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের সঙ্গে পরাজিত হন। তবে আব্দুস সামাদ আজাদ মারা গেলে ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। 

২০০৮ সালেও তিনি চারদলীয় জোটের প্রার্থী হন। তবে এবার তার ভোটের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় সাড়ে ৫৬ হাজার। প্রায় দ্বিগুণ ভোটে তাকে পরাজিত করেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নান। ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলেও ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নির্বাচনে তিনি খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। 

২০২৩ সালের শেষ দিকে মাওলানা শাহীনুর পাশা জমিয়ত ত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তৃণমূল বিএনপি থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে তিনি মাত্র চার হাজার পাঁচ ভোট পান। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর তিনি মাওলানা মামুনুল হকের হাত ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। 

একটা সময় রাজনীতিতে শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বেশ ক্রেজ থাকলেও এখন সেটা অনেকটা ম্লান হওয়ার পথে। এর বড় কারণ, তিনি রাজনীতিতে শিবির পাল্টেছেন। জমিয়তের রাজনীতিতে তার উত্থান ঘটলেও তিনি এখন জমিয়তবিরোধী শিবিরে অবস্থান করছেন। তিনি যতগুলো সংসদ নির্বাচনে ভালো করেছেন সবগুলোতেই জমিয়তের ভোট ছিল বড় ফ্যাক্টর। জমিয়তের বাইরে গিয়ে ভোট করে তিনি গত নির্বাচনে যেমন সুবিধা করতে পারেননি, এবারও পারবেন না বলেই মনে করেন রাজনীতি সচেতন মানুষেরা। তাছাড়া শেখ হাসিনার ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি নিজের ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছেন। এমনকি এবার জোট থেকে এককভাবে তাকে প্রার্থী করার ব্যাপারে আপত্তি উঠেছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত অন্যদের জন্য আসনটি উন্মুক্ত রেখেছে। 

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। আসনটিতে কোনো সময়ই বিএনপির বড় কোনো ভোটব্যাংক ছিল না। তবে জমিয়তের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট আছে। এবার সেই ভোট ধানের শীষের বাক্সে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ধানের শীষের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। 

বিএনপির বিরোধী বলয় হিসেবে দুজন প্রার্থী এখানে আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী এবং সৈয়দ তালহা আলম। মূলত তারা দুজনই জমিয়তের লোক। শাহীনুর পাশা চৌধুরী মূল জমিয়তে ছিলেন এবং সৈয়দ তালহা আলম ছিলেন মুফতি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বাধীন জমিয়তের একাংশে। তবে সম্প্রতি তিনি দল বদল করে যোগ দিয়েছেন মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন আমার বাংলাদেশ-এবি পার্টিতে। দলটি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার পর তালহা আলমকে এই আসনে প্রার্থী করার দাবি জানায়। একদিকে শাহীনুর পাশা চৌধুরী, অন্যদিকে তালহা আলম- সাবেক দুই জমিয়ত নেতাকে নিয়ে বিপাকে পড়ে জোট। শেষ পর্যন্ত জামায়াত নিজেরা এখান থেকে সরে গিয়ে অন্যদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় আসনটি। এক জোট থেকে দুজন প্রার্থী থাকায় বিএনপি এখানে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর জন্য পুনরায় সংসদে যাওয়া অনেক কঠিন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ