শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭


শোনো হে নবীন! তোমাকেই বলছি ...

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মাওলানা আবু সাঈদ ||

হক-বাতিল ও সত্য-মিথ্যার লড়াই চিরন্তন। বিশ্বাস-অবিশ্বাস, মান্যতা ও অবাধ্যতার এ দ্বন্দ্ব সর্বপ্রথম শুরু হয়েছিল ঊর্ধ্বলোকে আবুল বাশার আদম আ. ও আবুশ শায়তান ইবলিসের মাঝে। হাবিল-কাবিল এর মাধ্যমে মর্তলোকে এর প্রথম প্রকাশ। কাল পরিক্রমায় তা বহু শাখা-প্রশাখা, পত্র-পল্লবে ছড়িয়ে মানবসমাজে আজ অবধি অব্যাহত আছে। কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। যুদ্ধটা পুরনো হলেও প্রতিযুগে এতে ব্যবহৃত হয়েছে সমকালীন নতুন অস্ত্র। হককে মিটিয়ে দেয়ার জন্য বাতিল নতুন নতুন অস্ত্র নিয়ে বারবার হাজির হয়েছে ময়দানে। তবে বাতিল যখন যে অস্ত্র নিয়েই মাঠে নেমেছে; হক তার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে বাতিলকে প্রতিহত করেছে। উঁচু রেখেছে হকের ঝান্ডা।

আগে দুই প্রতিপক্ষের মাঝে লড়াই হতো মুখোমুখি। লোকবল, অস্ত্রবল, সাহস ও বীরত্বের জোরে একদল বিজয়ী হতো অন্য দলের উপর। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে পাল্টে গেছে যুদ্ধের ধরণ। এযুগে অস্ত্রের জায়গা দখল করে নিয়েছে কলম, সাহিত্য ও মিডিয়া। এমনকি জীবাণুকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এযুগে। খুবই সার্থকভাবে। লড়াইয়ের ময়দান আজকাল খোলা মাঠ নয়; মানুষের মনোজগত। যার পরিধি অনেক বিস্তৃত। এখন যুদ্ধজয়ের পরিকল্পনা হয় ল্যাবরেটরি ও গবেষণাগারে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানের বুদ্ধিবৃত্তিক এ যুদ্ধ বেশি ভয়াবহ। এর ক্ষয়ক্ষতি সীমাহীন। প্রভাব সুদূর প্রসারী। তাই এ যুদ্ধের জন্য আমাদের উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ প্রয়োজন। বাতিলপন্থিদের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে মানুষের চিন্তার জগতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা দূর করে বাতিল শিবিরে পাল্টা আক্রমণের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে আমাদের। তাসের ঘরের মত উড়িয়ে দিতে হবে তাদের সব ষড়যন্ত্র। গড়ে তুলতে হবে বিশ্বাসের মজবুত প্রাসাদ।

প্রিয় তরুণ বন্ধুরা! তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারী। তোমাদেরকেই করতে হবে প্রলয়ঙ্কারী এ তুফানের মোকাবিলা। মিডিয়া ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া মনোজাগতিক অস্থিরতা তোমাদেরকেই দূর করতে হবে। বয়সের স্বল্পতা ও দৈহিক ক্ষুদ্রতায় তোমরা হীনবল হয়ো না। তোমরা হলে সেই বীজ, আকারে ছোট হলেও যার মাঝে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। তোমাদের মাঝেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যত সেনাপতি, বিজেতা, আবিষ্কারক, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক সত্তা। কবি বলেন, “শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুরই অন্তরে”। অতএব, তুমি তোমার ক্ষুদ্রতার কথা না ভেবে সম্ভাবনার কথা ভাবো। মুষ্টিবদ্ধ হাতে দৃপ্তকণ্ঠে শপথ নাও!

‘বাতিলের দুর্গে আঘাত হানবোই, হকের সুরক্ষা প্রাচীর মোরা গড়বই।’

তোমাদের ভেতরের সাহিত্য প্রতিভা ও লেখক সত্তাকে জাগিয়ে তুলতে দরসি পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে কিছু কাজ করতে পারো। সেগুলো হল :

১। নিয়মিত রোজনামচা লেখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া

২। নিজের তালীমি মুরব্বি বা কোনো স্নেহশীল উস্তাদের পরামর্শে লেখালেখি ও সাহিত্যের কিছু বই পুস্তক পড়ার চেষ্টা করা।

৩। সপ্তাহে একদিন বা পনেরদিন অন্তর অন্তর সাহিত্যামোদি শিক্ষার্থীরা একসাথে বসে সাহিত্য মজলিস করা।

৪। কোনো একটি ভালো বই বা কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পাক্ষিক পাঠচক্রের আয়োজন করা যেতে পারে।

৫। বাংলা, আরবি ও ইংরেজি ভাষা বলা ও লেখার সময় বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও বানানের শুদ্ধতার প্রতি গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখা।

৬। শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন ছুটিতে এবিষয়ক কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণ করা।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উম্মাহর যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে গঠে ওঠার তাওফিক দান করুন! আমিন!

লেখক: মুহাদ্দিস, মাদরাসা দারুর রাশাদ

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ