মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


৯ কারণে বাতিল হতে পারে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। তবে এ সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ৯টি কারণে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানি বাতিল হতে পারে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সম্মানি পাওয়ার যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং সম্মানি বাতিলের কারণগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সম্মানি পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায় কর্মরত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির নিয়োগপত্র থাকাও বাধ্যতামূলক।

এ নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেবকদের মাসিক সম্মানি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেওয়া হবে উৎসব ভাতাও। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিস্থিতিতে সম্মানি বাতিলের কথা বলা হয়েছে। কারণগুলো হলো—

১. নৈতিক স্খলন বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে

কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে তার সম্মানি বাতিল হবে।

২. চাকরিচ্যুত বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে

সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হলে অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সম্মানি বাতিল বলে গণ্য হবে।

৩. তথ্য জালিয়াতি প্রমাণিত হলে

সম্মানি পাওয়ার জন্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে এ সুবিধা বাতিল করা হবে।

৪. রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে

কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার সম্মানি বাতিল হবে।

৫. সম্মানিভোগীর মৃত্যু হলে

কোনো সম্মানিভোগী ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার সম্মানি বাতিল বলে গণ্য হবে।

৬. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলে

কেউ সংশ্লিষ্ট মসজিদ বা অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও সম্মানিভোগী হিসেবে নির্বাচিত হলে তার সম্মানি বাতিল হবে।

৭. অন্য উৎস থেকে বেতন-ভাতা পেলে

কোনো ব্যক্তি অন্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, ট্রাস্ট, বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পেলে তিনি এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

৮. সমাজবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে

কোনো ব্যক্তি সমাজবিরোধী বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমনটি প্রমাণিত হলে তার সম্মানি বাতিল হবে।

৯. রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে

কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে তিনি এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

নীতিমালায় মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণ সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা বাড়ানো এবং বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যেই এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ