মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ ।। ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৮ সফর ১৪৪৮


বন্ধ ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের কাছে তিনটি পাটকল লিজ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটির এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। তিনটি মিল চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। এ জন্য মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিল তিনটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। মিলটি পুনরায় চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় অবস্থিত স্টার জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি মিল ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব মিলের মধ্যে ৯টিতে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি এবং লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ