সংবাদমাধ্যমের জন্য নীতিমালা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি জবাবদিহির অধীনে থাকবে। সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য গণমাধ্যম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হলে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা বিপদগ্রস্ত হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেছেন, নৈরাজ্যপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের কারণে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়। সংবাদমাধ্যম স্বাধীন থাকলে গণতন্ত্র সমৃদ্ধ হয়। সংবাদকর্মীদের সব সময় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে জনগণের কাছে সংবাদ পৌঁছানোর মাধ্যম। জনগণের অধিকার সঠিক ও সত্য তথ্য পাওয়া। কিন্তু সেই কাজ বাদ দিয়ে গণমাধ্যম যখন মিথ্যা তথ্য, বিকৃত তথ্য, অবৈধ সরকারের চুক্তি ভিত্তিক মনগড়া তথ্য, লুটেরা ব্যবসায়ীদের তথ্য এবং সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় তখন সৎ সাংবাদিকরা এবং মহান এই পেশাকে যারা দেশ প্রেম ও নৈতিকতা থেকে আঁকড়ে ধরেছেন তারা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ও রাজনৈতিক শক্তি গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়। গণমাধ্যমে তাদের নিজস্ব একটা কমিউনিটি তৈরির চেষ্টা করে। তারা চায় নিজেদের খুশি মতো শাসন করতে, শোষণ করতে। লুট, খুন ও গুম করতে। তাদের এসব অপকর্ম যেন ঢাকা পড়ে তাই তারা সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে একটি সঠিক গণমাধ্যম নীতিমালা নির্ধারণ প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পত্রিকা মালিক সমিতির বৈঠক হয়েছে। ফলে দেশে গণমাধ্যমের জন্য একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গুলজার রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমি মাহবুব, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম ও মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু প্রমুখ।
জেডএম/
