বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মিশরে পর্যটকবাহী বাসে ট্রাকের ধাক্কা: নিহত ১৩, আহত ৩৪ যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে ইসলামী যুব আন্দোলনের বৈঠক ২১ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি মোল্লাহাটে বিকেএমে যোগ দিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ জনপ্রতিনিধি জাপানে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সহজ করতে সমঝোতা ধর্মমন্ত্রীর হাতে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইজতেমার দাওয়াতপত্র হস্তান্তর মসজিদে হারামের ইমাম শায়খ বান্দার বালিলাহর পদোন্নতি ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রীতির বন্ধনে ৪৫ বছর, নড়াইলে গা ঘেঁষে অবস্থান মসজিদ-মন্দিরের কুমিল্লায় বৃত্তি প্রদান ও আল্লামা নুরুল হক (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

শাপলা ট্রাজেডির ১৩ বছর, কতটা ভয়াবহ ছিল সেই রাত


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আজ থেকে ১৩ বছর আগে। ২০১৩ সালের ৫ মে। সেদিন রাজধানীর শাপলা চত্বরে নাস্তিক ব্লগারদের বিচারসহ ১৩ দফা দাবিতে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল হেফাজতে ইসলাম। সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা এসে রাজধানীর ছয়টি প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে হেফাজতের নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয়, একটি সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। আর এর জন্য তারা বেছে নেন শাপলা চত্বরকে, যেখানে ঠিক এক মাস আগে (৬ এপ্রিল) লংমার্চ কর্মসূচি শেষে সমাবেশ করেছিলেন। 

ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ সরকার এবং তাদের দলীয় লোকজন ছিলেন মারমুখী। বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উত্তাপ ছড়াচ্ছিল। শাপলা চত্বরে সমাবেশের ব্যাপারে হেফাজত নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে দেন দরবার করছিলেন। এক পর্যায়ে অনুমতিও মেলে। তবে ডিএমপির শর্ত ছিল শুধু মোনাজাত করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে আয়োজন।

তবে দিনভর গুলিস্তান, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী লালবাগ মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন। কথা ছিল, তিনি এসে দোয়া করে অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। তিনি মতিঝিলে আসার জন্য রওয়ানাও দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূলে চলে গিয়েছিল যে, তিনি আর আসতে পারেননি। এরই মধ্যে সন্ধ্যা পেরিয়ে যায়। এদিকে এভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করলে নানা স্থানে নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে হেফাজত নেতারা রাতে সেখানেই অবস্থানের ঘোষণা দেন।

তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি সন্ধ্যায় একটি সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। না হলে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলে জানান। তখনই আঁচ করা যাচ্ছিল রাতে ভয়াবহ কিছু হবে।

পুরো অপারেশনের নেতৃত্ব দেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তিনি তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার। পুলিশের ‘অপারেশন সিকিউর শাপলা’, র্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট শাপলা’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে যখন রাতে হেফাজত নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। চারদিক ছেয়ে যায় অন্ধকারে। তখন হেফাজতের লোকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুলসংখ্যক সদস্য প্রস্তুত হন পল্টন, ফকিরাপুল ও দিলকুশা এলাকায়। হেফাজতের লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য খোলা রাখা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে কমলাপুর স্টেশন যাওয়ার রাস্তা এবং বঙ্গভবনের দিকের রাস্তা।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর ভাষ্যমতে, রাত দেড়টার দিকে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা শাপলা চত্বরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। প্রথমে হাতমাইক ব্যবহার করে অবস্থানকারীদের সরে যেতে বলেন। কিন্তু মঞ্চ থেকে সাড়া না পাওয়ায় মূল অভিযান শুরু করতে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মূল অভিযান শুরু রাত পৌনে তিনটায়।

বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ—তিন বাহিনীর সদস্যরা ফাঁকা গুলি আর কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে থাকেন। থেমে থেমে সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করা হয়। শত শত ফাঁকা গুলি, সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ এবং অন্ধকার এলাকায় এসবের আলোর ঝলকানি মুহূর্তেই ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল। ১০ মিনিট ধরে চলে এ পরিস্থিতি। এরই মধ্যে একপর্যায়ে মঞ্চের মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ফাঁকা গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে এগোতে শুরু করেন শাপলা চত্বরের দিকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তোপখানা মোড় থেকে এগোনো শুরু করার পর ১০ মিনিটেই পৌঁছে যান শাপলা চত্বরে। ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চও খালি হয়েছিল মুহূর্তেই।

এদিকে অভিযানের সময় হেফাজতের শত শত কর্মী–সমর্থক মতিঝিল এলাকায় সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পুলিশ পুরো এলাকার দখল নেওয়ার পর বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নেওয়াদের বের করে এনে এলাকা ছাড়া করা হয়। ভোর চারটার সময়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থেমে থেমে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আশপাশের ভবনগুলোতে তল্লাশি চালায়।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ