শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদেশে থাকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশের স্কুল পরিবেশ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দেশের শিক্ষাঙ্গনকে আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করেন।
তিনি বলেন, 'আমি শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা চাই না, আমূল পরিবর্তন চাই।' এ লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ও জুতা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানজনক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার চায় প্রতিটি শিশু সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাক।
জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি মুক্ত সমাজ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাবে।
নারী শিক্ষার প্রসারে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করা হবে। পাশাপাশি ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে উপবৃত্তি চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।
দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলের কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুতই এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
আইও/