শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ।। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে কোটচাঁদপুরে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল খাগড়াছড়িতে ক্বওমি মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের নবীন আলেম সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হজ করতে সৌদি আরব গেলেন সেনা প্রধান সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপির শয্যাপাশে মুফতি আবুল হাসান রাত ১টার মধ্যে ১১ অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বৈঠক হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর সতর্কতা আমিরাতের ‘দ্রুতবিচারের দাবিকে মধ্যযুগীয় বলে জনতার সঙ্গে উপহাস করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ মসজিদে হারামের খুতবায় হজের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান ‘ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে মধ্যযুগীয় বলা ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা’

আগামী ৫ বছরে সরকারের পরিকল্পনা, নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা, মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেওয়া এবং ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হচ্ছে এ পরিকল্পনা।

গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলপত্রের সঙ্গে যুক্ত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কৌশলপত্রের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো একেবারেই প্রাথমিক। আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, সরকারের নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে খসড়াটি।

পরিকল্পনাটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপ ‘পুনরুদ্ধার’, যা ছয় মাস মেয়াদি; এতে চলমান সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই সময়ে বিনিময় হার যৌক্তিকীকরণ, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ব্যবসার লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপ ‘পুনর্বিন্যাস’, যার সময়কাল এক বছর; এতে আর্থিক খাত পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার একীভূতকরণ ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপ ‘পুনর্গঠন’, যা পাঁচ বছর মেয়াদি; এতে শিল্পের বহুমুখীকরণ, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত কৌশলপত্রে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার আওতায় প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিস্তৃত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় আনা, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করে সহজে কৃষিঋণ ও উপকরণ সরবরাহ, স্বাস্থ্য খাতে ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং সবার জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহর ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন ফান্ড গঠন এবং অসহায়, বিধবা ও প্রবীণদের ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশলে ১ কোটি চাকরি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র গড়ে তোলা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, আইটি খাতে নতুন শিল্প স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ এবং ৫ লাখ শূন্য সরকারি পদে স্বচ্ছ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা, সমকাজে সমবেতন, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানে সিন্ডিকেট বন্ধ করে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রস্তাবিত পঞ্চবার্ষিক কৌশলপত্রের প্রাথমিক খসড়ায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়েও পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করা, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, উন্মুক্ত দরপত্র ও রিয়েল-টাইম অডিট, ৫ লাখ সরকারি পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, বিচার বিভাগ সংস্কারে জুডিসিয়াল কমিশন, ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন, জনবান্ধব পুলিশ, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, জুলাই অভ্যুত্থান ও ভোট জালিয়াতি তদন্তে স্বাধীন কমিশন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কৌশলে ২০৩০ সালের মধ্যে নামমাত্র জিডিপি ৪৯৫ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৪২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিটি, ব্লু ইকোনমি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যও রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করতে চায় সরকার।

প্রাথমিক কৌশলপত্রের খসড়া অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় সরকার। তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৫ শতাংশ, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৭ শতাংশ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সাড়ে ৭ শতাংশ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৌশলপত্রের খসড়ায় পর্যায়ক্রমে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ৮ শতাংশ থেকে আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশলপত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে পরিবেশগত উন্নয়ন। মোট বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও আশা করা হচ্ছে, বর্তমান অর্থবছরে সেটি হবে ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬ শতাংশে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলপত্রে। কৌশলপত্রের শেষ অর্থবছরে এ লক্ষ্য ১০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে চলতি এবং আগামী অর্থবছরে ৮ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৯ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হবে। চলতি হিসাবের ঘাটতিও ধীরে ধীরে কমিয়ে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। এ ছাড়া একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধিনির্ভর বিকল্প চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে এতে ঋণের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় আইসিটি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ লাখ কর্মসংস্থান (২ লাখ সরাসরি ও ৮ লাখ ফ্রিল্যান্সিং) সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধার্থে পেপালসহ জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু এবং দেশজুড়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সম্ভাবনা হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে সৃজনশীল খাত (চলচ্চিত্র, গেমিং ইত্যাদি) থেকে জিডিপিতে ১.৫ শতাংশ অবদান রাখা এবং ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া, পাদুকা এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে শক্তিশালী করা হবে। এ-ছাড়া ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও রপ্তানি অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ‘উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন এবং হাওর অঞ্চলের যোগাযোগ ও জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার যানজট ও জনচাপ কমাতে স্যাটেলাইট টাউন, মনোরেল, নারীদের জন্য পিঙ্ক বাস এবং স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

পরিবেশ ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করে ৫২০টি নদী পুনরুদ্ধার করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্যটন শিল্পের বিকাশে জেলাভিত্তিক বিশেষ কৌশল ও ভিসা সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন এই কৌশলগত কাঠামোয় ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, একক জানালা সেবা চালু করা এবং সব ধরনের অনুমোদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কোম্পানি নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং কর্মসংস্থানের অনুমতি ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কৌশলপত্র বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. আশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতের ‘বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন’ ও ‘সংখ্যানির্ভর’ পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এবার বাস্তবভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আগের পরিকল্পনায় লক্ষ্য, পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ছিল। এবার সে অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে এমন কৌশল নেওয়া হবে, যা জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ নতুন পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি। অর্থাৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সব অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা, গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ও পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার পাবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সাজাতে সরকার কাজ করছে। আগামী চার, আট ও দশ বছরের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চিত্র সামনে রেখে একটি কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমান সংকট থেকে পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি—দুই দিকই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর আহমেদ বলেন, শুরুতে দুই বছর মেয়াদি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়েছিল। তবে নির্বাচিত সরকারের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট পাওয়ার পর তা বিস্তৃত করে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে কয়েকটি প্রেক্ষাপটভিত্তিক গবেষণা শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খসড়া কাঠামো তৈরি হবে। এরপর অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ শেষে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করা হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, দেশের ইতিহাসে এখনো ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির স্পষ্ট নজির নেই। তবে অতীতে না হওয়া মানেই ভবিষ্যতে তা অসম্ভব—এমনও নয়। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বিনিয়োগ ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার বাস্তবতায় এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বড় ধরনের সংস্কার, নীতি আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ড. জাহিদ বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, বিনিয়োগ জিডিপির ৩৭ শতাংশের বেশি নেওয়া এবং চার বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব লক্ষ্যও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তবে এগুলো একেবারে অসম্ভব নয়। তার মতে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দেশীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি একসঙ্গে হলে লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশ বহু বছর ৫ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি ধরে রাখতে পেরেছে। তাই কার্যকর মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ