সরকার গঠনের পর নতুন সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কওমি সিলেবাসে ‘সিরাত’ অবহেলার শিকার হওয়া বেদনাদায়ক: মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১৮টি প্রকল্প উত্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্প বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
*অগ্রাধিকার খাত—
প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- নদী, পানি ও জলবায়ু বিষয়ক ৪টি প্রকল্প।
- অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত ৫টি প্রকল্প।
- সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন বিষয়ক ৩টি প্রকল্প।
- স্বাস্থ্যখাতে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ ২টি প্রকল্প।
- প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প।
*গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ—
বৈঠকে আলোচনার জন্য যেসব প্রকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন (বগুড়া ও গাইবান্ধা)।
- ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ।
- রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প।
- সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ।
- আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন।
- সীমান্ত সড়ক নির্মাণ।
- ৮টি বিভাগে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ।
*এছাড়া নতুন ৯টি প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্পও উপস্থাপন করা হবে বৈঠকে—
আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’বাদ দেওয়া হয়েছে এবারের একনেক বৈঠকের তালিকা থেকে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলায় এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছিল। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আইনুল ইসলাম বলেন, 'জলবায়ু, নদী, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতি ও সময়ক্ষেপণ হলে প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে পারে—এ কারণে কঠোর নজরদারি জরুরি।'
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকের সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে এবং স্থাপন করবে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভিত।
জেডএম/