আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের মুসলিম শাসনের ঐতিহাসিক স্মারক তাজমহল নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী। স্থাপনাটির নিচে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে জরিপের আবেদন নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কেন জরিপ করা হবে না—তা জানতে কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ জারি করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
সোমবার (৬ জুলাই) বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চে শুনানিকালে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন।
আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাজমহল মূলত মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত সমাধিসৌধ নয়; এটি ‘তেজো মহালয়া’ নামে ভগবান মহাদেবকে উৎসর্গ করা একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২শ শতকে রাজা পরমর্দি দেব এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং পরে মুঘল শাসকরা স্থাপনাটি দখল করে সমাধিসৌধে রূপান্তর করেন।
আবেদনে তাজমহল প্রাঙ্গণে হিন্দুদের পূজার অনুমতি এবং পুরো স্থাপনাটি জরিপের জন্য আদালতের মাধ্যমে একজন অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগেরও আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, তাজমহলের চূড়ার কলস, পদ্মফুলের নকশা এবং এএসআইয়ের কিছু নথিতে উল্লেখ থাকা একটি কাঠামোসহ বিভিন্ন উপাদান প্রাচীন মন্দিরের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কিছু কক্ষ ও ভূগর্ভস্থ অংশে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি বা শিলালিপি থাকতে পারে বলেও তারা দাবি করেন।
তবে এর আগে আগ্রার দেওয়ানি আদালত ও জেলা আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব এবং আইনি গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তুলে একই ধরনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) এবং অধিকাংশ ইতিহাসবিদ এ দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন। তাদের মতে, তাজমহল একটি মুঘল সমাধিসৌধ এবং এটি কোনো প্রাচীন হিন্দু মন্দির ছিল—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয় স্ত্রী মুমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১৬৩১ সালে তাজমহল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৬৪৮ সালের দিকে মূল সমাধিসৌধের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য এবং বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে যে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাজমহলকে ঘিরে নতুন এই মামলা তারই ধারাবাহিকতার অংশ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম
আওয়ার ইসলাম/জেডএম
