শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৬ জিলহজ ১৪৪৭


যুদ্ধের ছায়া: শঙ্কা থাকলেও প্রভাব পড়েনি এবারের হজে


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির ছায়ার মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসলিম পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ২৫ মে শুরু হয়ে ২৯ মে পর্যন্ত চলবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রীর আগমন প্রত্যাশা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ এমন একটি ইবাদত, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার পালন করা ফরজ। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা মক্কায় সমবেত হন। বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলোর অন্যতম এই আয়োজন পরিচালনা সবসময়ই জটিল হয়ে থাকে। তবে চলতি বছর আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবু পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরব দাবি করেছে, তারা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যেগুলো সম্ভবত ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা পাঠিয়েছিল।

এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নাগরিকদের হজে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্চ মাসে সৌদি আরব থেকে মার্কিন সরকারের অ-জরুরি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানানো হয়। এছাড়া জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে।

তবে শুরুতে সতর্ক অবস্থানে থাকলেও পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ মুসলিমপ্রধান দেশ হজযাত্রীদের যাত্রার অনুমতি দেয়। বিশ্বের সর্বাধিক হজযাত্রী পাঠানো দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রথম দিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যাত্রা বিলম্বিত করার পরামর্শ দিলেও পরে স্বাভাবিক নিয়মে হজ কার্যক্রম চালু রাখে। চলতি বছর দেশটি প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী পাঠাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে হজকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, হজের পবিত্র স্থানগুলো পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এ বছর প্রায় ৩০ হাজার ইরানি হজযাত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

নিরাপত্তা জোরদারে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পবিত্র স্থানগুলোর চারপাশে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং অ্যান্টি-ড্রোন লেজার অস্ত্রের উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আকাশে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হলে তার ধ্বংসাবশেষ হজের পবিত্র স্থানগুলোর আশপাশে পড়ে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে হজের ব্যয়েও। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিমান ভাড়াও বেড়েছে। কিছু দেশ অতিরিক্ত খরচ নিজস্বভাবে বহন করলেও অনেক দেশ সেই বাড়তি ব্যয় হজযাত্রীদের ওপর চাপিয়েছে।

এছাড়া বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতায় সীমিত আয়ের মুসল্লিদের জন্য হজ পালন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করলেও অনেক ইন্স্যুরেন্স প্যাকেজে যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আহত হওয়া বা ফ্লাইট পরিবর্তনের মতো অতিরিক্ত ব্যয় অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের নিজেদের বহন করতে হতে পারে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে উর্দু

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ