|| মুফতী আফফান বিন শরফুদ্দীন ||
- কোনো গর্ভবতী নারীর নরমালে বাচ্চা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ভয় দেখিয়ে অনর্থক সিজার করতে বাধ্য করা প্রতারণা ও জুলুম। সুস্পষ্ট না জায়েজ। এবং প্রতারণা ও জুলুমের মাধ্যমে উপার্জিত টাকাও অবৈধ।
- সত্যিকারের ন্যায়পরায়ণ, দ্বীনদার, অভিজ্ঞ, মুসলিম ডাক্তার যদি কোনো পেশেন্টের ক্ষেত্রে বলেন যে, 'সিজার' না করলে বাচ্চা অথবা মায়ের জীবন বিপন্ন হতে পারে কিংবা অঙ্গহানির প্রবল আশঙ্কা আছে তখন সিজার করা ওয়াজিব। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বামী/শশুর/শাশুড়ি কিংবা অন্য কেউ 'নরমাল' ডেলিভারির জন্য গর্ভবতী মেয়েকে বাধ্য করা না জায়েজ।
- যদি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ন্যায়পরায়ণ অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে পরিবারের লোকজন নরমালে বাধ্য করে, সুযোগ ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এবং এ কারণে মা কিংবা সন্তান মারা যায় অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ইসলামি আইনে (ইসলামি শাসনাধীন অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) তারা কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে। ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্টদেরকে রক্তপণ (দিয়ত) দেওয়া লাগতে পারে।
- নরমাল ডেলিভারি করতে গিয়ে ইন্তেকাল করলে এবং কষ্ট সহ্য করলে যে সওয়াব হয় সিজার করতে গিয়ে মারা গেলে কিংবা অপারেশনের পরে নারীদের যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তাতেও ইনশাআল্লাহ একই রকম সওয়াব হবে। কারণ এই ফজিলত নির্দিষ্টভাবে নরমাল ডেলিভারির সাথে সম্পৃক্ত না বরং সন্তান জন্মদানের সাথে সম্পৃক্ত।
- নরমাল ডেলিভারি অবশ্যই প্রাকৃতিক কারণে উত্তম। নিজের সাধ্য ও সহ্যক্ষমতা অনুসারে প্রতিটি মায়েরই আল্লাহ প্রদত্ত এই পদ্ধতিতে ডেলিভারির সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। তবে অবশ্যই সেটা দক্ষ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও পরিবারের সদস্যদের খেয়াল খুশি ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করতে গিয়ে স্ত্রী বা বাচ্চার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার নাম তক্বওয়া না বরং জাহালত। নিরেট মূর্খতা।
- মাওলানা গুনবী সাহেবের এ সংক্রান্ত বক্তব্যে আবেগনির্ভর অতিরঞ্জন ও সুস্পষ্ট ভুল দৃশ্যমান। পাবলিক প্লেসে মাসয়ালা বলার ক্ষেত্রে তার আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
- মনে রাখবেন, আপনাদের পছন্দ অপছন্দের নাম ইসলাম না। ইসলামি আইনের নিজস্ব মূলনীতি আছে। তাই যারা শরিয়ত ও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখেননা তারা এই বিষয়ে অন্যদের ওপরে কোনো ধরনের মতামত চাপিয়ে দেওয়া বৈধ না। শুধু আবেগের বশে যারা এই টপিকে অনর্থক ঝগড়া বিবাদ ও গালাগালি করছেন তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা। মাসয়ালা মাসায়েল ও চিকিৎসা বিষয়ে শুধু সার্টিফাইড মুফতি ও ডাক্তাররা কথা বলা উচিত। বাকিদের জন্য চুপ থাকা আবশ্যক।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, উচ্চতর ইসলামি আইন অনুষদ, জামিয়া উসমান রা.; ইমাম ও খতিব, বাইতুল মাহফুয জামে মসজিদ, নিকুঞ্জ- ২, খিলক্ষেত, ঢাকা
জেডএম/
