মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ ।। ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২২ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বান্দরবানে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যার আশঙ্কায় ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত চট্টগ্রামসহ ১৬ জেলায় বন্যার সম্ভাবনা, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ‌উদ্বেগ পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি ও প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি ঘোষণা খামেনির জানাজার মধ্যেই ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের শরিয়াহ দায়িত্ব ও একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শেয়ারবাজার থেকে ৭৭৫ কোটি টাকা তুলবে ইউসিবি শুভসন্ধ্যা সৈকতে গোসল করতে নেমে দাখিল পরীক্ষার্থী নিখোঁজ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি বাংলাদেশিদের জন্য খুলে দেওয়া হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ‘জুলাইকে ব্যর্থ করতে নতুন করে জঙ্গি নাটক সাজানো হচ্ছে’

গোপন প্রেম নয়, হোক হালাল সম্পর্কের সূচনা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

আজকের সমাজে বিয়ের আগে প্রেমকে অনেকেই স্বাভাবিক বা আধুনিকতার প্রতীক মনে করেন। কিন্তু একজন মুসলিমের জীবনধারার মানদণ্ড সমাজ নয়; বরং আল্লাহর বিধান। আর আল্লাহর বিধান হলো- নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, একান্তে দেখা-সাক্ষাৎ এবং বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক বৈধ নয়। এসব সম্পর্ক মানুষকে ধীরে ধীরে বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।’ -সূরা আল-ইসরা: ৩২

ব্যভিচার শুধুমাত্র একটি কাজের নাম নয়; বরং যেসব পথ মানুষকে সেই পাপের দিকে নিয়ে যায়, ইসলাম সেসব পথও বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য দৃষ্টি সংযম, পর্দা রক্ষা এবং প্রয়োজন ছাড়া পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিয়ের উদ্দেশ্যে শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে অভিভাবকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের সুযোগ ইসলাম রেখেছে।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ যেনো কোনো (গায়রে মাহরাম) নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান না করে। কেননা, তখন তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়তান।"

-তিরমিজি, হাদিস: ২১৬৫

সুতরাং একজন মুমিন কখনো বিয়ের পূর্বে প্রেমের সম্পর্কে জড়াবে না। তার ভালোবাসা হবে পবিত্র, সংযমপূর্ণ এবং আল্লাহর বিধাননির্ভর। যদি কাউকে ভালো লাগে, তাহলে গোপন প্রেম নয়; শরিয়তসম্মত উপায়ে পরিবারকে জানিয়ে বিয়ের পথেই আগানো উচিৎ। আর এটাই  ইসলামের শিক্ষা। কারণ, যে সম্পর্ক আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে শুরু হয়, তাতেই রয়েছে বরকত, প্রশান্তি ও স্থায়ী কল্যাণ।

আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবনকে শুধু একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে নয়; বরং ভালোবাসা, দয়া ও প্রশান্তির বন্ধন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো। আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা (মাওয়াদ্দাহ) ও দয়া (রাহমাহ)। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ — সূরা আর-রূম, আয়াত ২১

মানুষের মনে কারও প্রতি ভালো লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন মুমিন সেই অনুভূতিকে হারাম সম্পর্কে রূপ দেন না; বরং হালাল পথেই পরিচালিত করেন। কারণ, শয়তান মানুষকে এক ধাপে গুরুতর পাপের দিকে নিয়ে যায় না; বরং ছোট ছোট অবাধ সম্পর্কের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পথভ্রষ্ট করে। তাই পাপের প্রথম দরজাটিই বন্ধ করে দেওয়া ঈমানদারের প্রজ্ঞা। যে সম্পর্ক আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে শুরু হয়, তাতেই নেমে আসে বরকত, ভালোবাসা, রহমত ও প্রশান্তি। তাই আসুন—গোপন প্রেম নয়; হোক হালাল সম্পর্কের সূচনা।

লেখক : শিক্ষক, গবেষক ও ঔপন্যাসিক

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ