||নাজমুল হাসান||
রমজান মাসে সেহরির সময় নির্ধারণে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় ঘড়ির ভুল, আজানের সময় সম্পর্কে বিভ্রান্তি কিংবা অসাবধানতার কারণে কেউ ধারণা করেন যে এখনো ফজরের সময় শুরু হয়নি। কিন্তু পরে জানা যায়— সেহরি খাওয়ার আগেই সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে: ওই দিনের রোজা কি আদায় হবে? কাজা নাকি কাফফারা— কোনটি ওয়াজিব হবে?
শরিয়তের বিধান
যদি কেউ এ মনে করে সেহরি খায় যে এখনো ফজরের সময় হয়নি, কিন্তু পরে নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে ফজর আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল— তাহলে ওই দিনের রোজা সহিহ হবে না। তার ওপর শুধু সেই দিনের কাজা ওয়াজিব হবে; কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
কারণ এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং সময় সম্পর্কে ভুল ধারণা বা যাচাই না করার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তাই এটি ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে না।
দিনের বাকি সময়ের হুকুম
যদিও ওই দিনের রোজা আদায় হবে না, তবুও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য দিনের অবশিষ্ট সময় রোজাদারের মতো পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী সব কাজ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। অর্থাৎ, সম্মানার্থে ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী দিনটি ইমসাক অবস্থায় পূর্ণ করতে হবে।
ফিকহি দলিল
আল-ফাতাওয়া আল হিন্দিয়া-তে উল্লেখ আছে:
‘যার ওপর দিনের শুরুতে রোজা ফরজ হয়েছে এবং সে রোজা রাখার উপযুক্ত ছিল, কিন্তু পরে কোনো কারণে রোজা চালিয়ে যেতে পারেনি— যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করেছে, সন্দেহের দিনে না খেয়ে পরে জানা গেল তা রমজান ছিল, অথবা ফজর হয়নি মনে করে সেহরি খেয়ে পরে জানা গেল ফজর হয়ে গেছে— তাহলে তার জন্য দিনের বাকি সময় রোজাদারের মতো বিরত থাকা ওয়াজিব।’ (১/২১৪–২১৫)
এছাড়া রদ্দুল মুহতার-এ বলা হয়েছে:
‘ফজর হয়নি মনে করে সেহরি খেলে তার ওপর কাফফারা নয়, শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কারণ এখানে অপরাধটি সীমিত— এটি যাচাই না করার ভুল; ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করার অপরাধ নয়।’ (২/৪০৫)
ফজরের সময় শুরু হয়ে যাওয়ার পর ভুলবশত সেহরি খেলে রোজা সহিহ হবে না। পরবর্তীতে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে, তবে কাফফারা দিতে হবে না। আর দিনের বাকি সময় রোজাদারের মতো সংযম বজায় রাখা অপরিহার্য।
তাই রমজানে সেহরির সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা, নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা এবং ফজরের আগে যথাসময়ে সেহরি সম্পন্ন করা প্রত্যেক রোজাদারের দায়িত্ব।
এনএইচ/