সোমবার, ২০ মে ২০২৪ ।। ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ।। ১২ জিলকদ ১৪৪৫


জানমাল বিক্রি করে জান্নাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

|| নাজমুল হুদা মজনু ||

মুমিন মুসলমানরা নিজেদেরকে আল্লাহ তায়ালার কাছে বিক্রয় করে মহা সাফল্য অর্জন করে থাকে। এ কথা চির সত্য যে, মুমিনদের কোনো লোকসান নেই। তারা নেয়ামত পেয়ে যেমন অতি উচ্ছ্বিত হয় না; আবার নেয়ামত হারিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়ে না। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তারা অকাতরে তাদের জান ও মাল বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

মুমিনদের ব্যাপারে কুরআনুল কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,
'অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের কাছ থেকে জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জান ও তাদের মাল খরিদ করে নিয়েছেন, এরা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, অতঃপর (এ জিহাদে কখনো কাফেরদের) তারা হত্যা করে, (কখনো আবার শত্রুর হাতে) তারা নিজেরা নিহত হয়।

তার ওপর (এ) খাঁটি ওয়াদা (এর আগে) তাওরাত এবং ইনজিলেও করা হয়েছিল, আর (এখন তা) এ কুরআনে করা হচ্ছে, এই ওয়াদা পালন করা আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব দায়িত্ব; আর আল্লাহর চেয়ে কে বেশি ওয়াদা পূরণ করতে পারে? অতএব (হে মুমিনরা), তোমরা তাঁর সাথে যে কেনাবেচার কাজ (সম্পন্ন) করলে তাতে সুসংবাদ গ্রহণ করো (কেননা) এটিই হচ্ছে মহাসাফল্য ৷'
'তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, রোজাদার, রুকুকারী, সিজদাকারী, ভালো কাজের আদেশদাতা, মন্দ কাজে বাধা প্রদানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা হিফাজতকারী; (এসব গুণে গুণান্বিত) মুমিনদেরকে তুমি খোশখবর শুনিয়ে দাও। (সূরা আত-তাওবাহ-১১২)

ইসলামকে বুলন্দ করার জন্য যুগে যুগে মুমিনরা লড়াই- সংগ্রাম করেছে এবং এখনো করছে। তবে আল্লাহ তায়ালা তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা কারো ওপর চাপিয়ে দেন না।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন কাজ সর্বোত্তম?’

তিনি  বললেন, ‘সময় মতো সালাত আদায় করা।’ আমি বললাম, ‘অতঃপর কোনটি?’ তিনি বলেন, ‘অতঃপর পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা।’ আমি বললাম, ‘অতঃপর কোন্‌টি?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’ এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আর কিছু জিজ্ঞেস না করে আমি চুপ রইলাম। আমি যদি আরো বলতাম, তবে তিনি আরো অধিক বলতেন। (বুখারি-২৭৮২)

মানুষের সাধ্য-সামর্থ্যের বাইরে রাহমানির রাহিম আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোনো দায়িত্বভার বান্দার ওপর কখনো চাপিয়ে দেন না।

এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা দুর্বল (এ যুদ্ধে শরিক না হওয়ার জন্য), তাদের ওপর কোনো দোষ নেই, (দোষ নেই তাদেরও) যারা অসুস্থ কিংবা যারা (যুদ্ধে) খরচ করার মতো কোনো সম্বল পায়নি, (অবশ্য) এরা যদি আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা হয় (তাহলেই তারা এ অব্যাহতির আওতায় পড়বে), সৎকর্মশীল মানুষের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগের কারণ নেই; আল্লাহ তায়ালা একান্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (‌সূরা-তাওবাহ-৯১)

ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, এমন অনেক বীর মুসলমান যুদ্ধে যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে আকুতি জানিয়েছেন; কিন্তু যুদ্ধে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় আসবাব তাদের ছিল না।

তাদের সম্পর্কেও আল্লাহ জাল্লাহ শানহু কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেছেন—
'(তাদের ব্যাপারেও কোনো অভিযোগ নেই) যারা (যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে) তোমার কাছে (যাত্রার) বাহন সরবরাহ করার জন্য এসেছিল এবং তুমি (তাদের) বলেছিলে, তোমাদের জন্য আমি এমন কিছু পাচ্ছি না, যার ওপর আমি তোমাদের আরোহণ করাতে পারি, (অতঃপর) তারা ফিরে গেল, তারা (এমনভাবে) ফিরল যে, তাদের চোখ থেকে অশ্রু বয়ে যাচ্ছিল, (যুদ্ধে যাওয়ার) খরচ জোগাড় করতে না পারায় তারা (ভীষণভাবে) দুঃখিত হলো। (সূরা-তাওবাহ-৯২)

লেখক : আলোচক ও সাংবাদিক

এনএ/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ