বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণায়ও মার্কিন নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও প্রচারণার মধ্যেও বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বেশ কয়েকজন মুসলিম প্রার্থী। তাদের মধ্যে কেউ গড়েছেন নতুন ইতিহাস, কেউ ধরে রেখেছেন নিজেদের জনপ্রতিনিধিত্ব। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৫১ জন মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বাকি ৪০ জন লড়ছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের অধিকাংশই ডেমোক্রেটিক পার্টির।

মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত জয়টি এসেছে মিশিগান থেকে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আব্দুল আল-সাইয়েদ। ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আল-সাইয়েদ দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনেও হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেছিলেন। পরে স্টিভেন্স নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন জানান। তবে তাতেও আল-সাইয়েদের বিজয় ঠেকানো যায়নি।

বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আল-সাইয়েদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার সমস্যা হয়েছে। তাই আগামী জানুয়ারিতে জেডি যখন আমাকে শপথ পড়াবেন, তখন আপনি আমাকে শুধু সিনেটর বলে ডাকতে পারেন।’

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন দুই মুসলিম নারী রাজনীতিক ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব। মিনেসোটা থেকে ৬২ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ইলহান ওমর। ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে হয়রানির মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে নির্বাচনে তাঁর বিজয় ঠেকানো যায়নি।

অন্যদিকে মিশিগানের ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম নারী রাশিদা তালিব। ইসরায়েলের নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিনিও প্রতিনিধি পরিষদে পঞ্চম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া থেকেও জয় পেয়েছেন মুসলিম নারী প্রার্থী লাতিফা সাইমন। একই অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। এ ছাড়া নিউজার্সি থেকে প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন মুসলিম প্রার্থী ডা. আদম হাশিম হামাওয়ি।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনেও ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে হিজাব পরিহিত প্রথম নারী হিসেবেও নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি।

নির্বাচনের সব ফলাফল প্রকাশের পর মুসলিম বিজয়ীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে ঘিরে জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। মুসলিম প্রার্থীদের একের পর এক বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে তাঁদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রভাবেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ