রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


হিজাব পরেই আইন পেশায়, আজ তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম হিজাবি বিচারক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ইউএনএ নিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে নিজের বিশ্বাস, পরিচয় ও আদর্শের সঙ্গে আপস করা জরুরি নয়—নিজের জীবন দিয়ে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যুক্তরাজ্যের মুসলিম নারী বিচারক রাফিয়া আরশাদ। হিজাব পরেই আইন পেশায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের প্রথম হিজাব পরিহিত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় আসেন এই নারী।

রাফিয়া আরশাদের এই পথচলা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। ২০০১ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য বৃত্তির সাক্ষাৎকার দিতে যাওয়ার আগে পরিবারের এক সদস্য তাঁকে হিজাব খুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, হিজাব পরা থাকলে বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

তবে সেই পরামর্শে রাজি হননি রাফিয়া। নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয়ের সঙ্গে আপস না করে হিজাব পরেই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত বৃত্তিও অর্জন করেন তিনি।

এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর পারিবারিক আইনবিষয়ক ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করেন রাফিয়া আরশাদ। এ সময়ে আইন পেশায় নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেন।

২০২০ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যের মিডল্যান্ডস সার্কিটে ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট জজ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এর মধ্য দিয়ে দেশটির প্রথম হিজাব পরিহিত বিচারক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের নভেম্বরে তাঁকে ডিস্ট্রিক্ট জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাফিয়া আরশাদের এই পথচলা কেবল পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং নিজের বিশ্বাস ও পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে স্বপ্ন পূরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবনকাহিনি বিশেষ করে মুসলিম নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যারা হিজাব পরেই শিক্ষা, কর্মজীবন ও নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে চান।

রাফিয়া আরশাদ দেখিয়েছেন, যোগ্যতা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও পেশাগত জীবনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ