বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ ।। ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৬ মহর্‌রম ১৪৪৮


‘মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারিতে মুসলিম থাকলে এনকাউন্টারে হত্যা করা হতো’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টে কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর দাবি, এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কোনো মুসলিম থাকলে এতদিনে তাকে এনকাউন্টারে হত্যা করা হতো এবং তার বাড়িতে বুলডোজার চালানো হতো।

সোমবার (২৯ জুন) পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বিজনোরে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, রাম মন্দির ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এখনো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ওয়াইসি কটাক্ষ করে বলেন, ট্রাস্টে যদি একজন মুসলিম থাকতেন, তাহলে এতক্ষণে তার এনকাউন্টার হয়ে যেত, বাড়িতে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হতো, আর মামলারও দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যেত। কিন্তু এখন অভিযুক্তরা দিব্যি আরামে আছেন।

তিনি ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, চম্পত আরামে আছেন। যদিও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর চম্পত রায় দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও ওয়াইসি প্রশ্ন তুলেছিলেন—উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যেভাবে বুলডোজার অভিযান ও পুলিশি ‘এনকাউন্টার’ পরিচালিত হয়, রাম মন্দিরের এই মামলার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও সরকার কি একই নীতি অনুসরণ করবে?

এদিকে, রাম মন্দির ট্রাস্টের অর্থ কেলেঙ্কারিকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এ ঘটনায় যোগী সরকারের জবাবদিহি দাবি করছে। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব বিষয়টি প্রকাশ্যে উত্থাপন করার পর তদন্তে গতি আসে।

এরপর রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়, হিসাববহির্ভূত নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয় এবং মন্দিরের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া প্রথম এফআইআরে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা সবাই রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ পর্যন্ত তদন্তে অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার হয়েছে। যদিও আত্মসাৎ হওয়া অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়, তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মন্দিরের তহবিল থেকে প্রায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ কোটি রুপি গরমিল রয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে কেউ প্রতারণা করলে তার পরিচয় যাই হোক না কেন, সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ