যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এবার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।
শুক্রবার (১৯ জুন) জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে লি জে মিয়ং বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে জানিয়েছেন যে ‘উত্তর কোরিয়া ইস্যুর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে।’ খবর আল জাজিরার।
লি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হচ্ছে না। তিনি পিয়ংইয়ং ও মস্কোর ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাশিয়ার সামান্য সহায়তাও উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় ধরনের উপকার।’
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তায় তিনি সৈন্য ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি তিনি পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানান। এর আগে বেইজিংয়ে শি জিনপিং ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছিলেন।
তবে উত্তর কোরিয়া ও চীনের সরকারি বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বেইজিংয়ের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিত হতে পারে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। সে সময় তিনি এক পর্যায়ে বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ‘ভালো সম্পর্ক’ গড়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি অর্জনে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
গত বছর এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প আবারও কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ‘শতভাগ প্রস্তুত’ বলে জানান। তবে সেই প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি পিয়ংইয়ং।
এদিকে সম্প্রতি ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া গত রোববার তিনি ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
জেডএম/