শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৬ জিলহজ ১৪৪৭


‘ইরানের জবাব পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক যে জবাব পাঠিয়েছিল ইরান, সেই জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, ইরান আলোচনার নামে দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ‘খেলা’ খেলছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে।

রোববার (১০ মে) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়লাম। এ জবাব আমার পছন্দ হয়নি—এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য!’

এর আগে আরেকটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইরান গত ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাসীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা আর হাসি-ঠাট্টকা করার সুযোগ পাবে না।’

কী বলেছে ইরান?

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তাদের প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে।

আল–জাজিরাকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, তেহরানের জবাবে পুরো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, বিশেষ করে লেবাননে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানি সূত্রের দাবি, তাদের জবাব ছিল ‘বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক’। এখন আলোচনার অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফার প্রস্তাব—

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন তেহরানকে একটি প্রস্তাব দেয় ১৪ দফার। সেখানে শর্ত দেওয়া হয়—ইরানকে আগামী ১২ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে এবং কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে না। এছাড়া ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং ইরানি বন্দরে চলমান নৌ-অবরোধ তুলে নিবে বলে আশ্বাস দেয়।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং বেশ কিছু জাহাজ জব্দ করে। গত এক সপ্তাহে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিও হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস, এই অবরোধের ফলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চরম সংকটের মধ্যেও টিকে থাকার সক্ষমতা আছে তেহরানের।

সূত্র: আল-জাজিরা

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ