শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৬ জিলহজ ১৪৪৭


ইরান-যুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি: সবই ‘ফাঁকা বুলি’, কার্যকর হয়নি একটিও


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে বারবার সময়সীমা বেঁধে দিলেও তা কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন উঠেছে তার কৌশল নিয়ে।

ইরান যুদ্ধের পঞ্চম দিন, ৪ মার্চ ২০২৬, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন, ‘অনেকেই ভেবেছিল ট্রাম্প শুধু কথা বলবেন, আসলে বাস্তবে তা ভুল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প ‘ফাঁকা হুমকি’ দেন না।

তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও কার্যকর হয়নি ট্রাম্পের একাধিক হুমকি ও বেঁধে দেওয়া সময়সীমা। সম্প্রতি পাঁচ সপ্তাহে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বারবার সময়সীমা ঘোষণা করলেও পরে তা পিছিয়ে দিয়েছেন।

এই সময়ে ট্রাম্প অন্তত পাঁচবার ইরানকে শর্ত মানতে সময়সীমা বেঁধে দেন। কিন্তু প্রতিবারই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই বাড়ানো হয় সেই সময়সীমা। এর মধ্যে ছিল ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, পাঁচ দিনের সময়সীমা, এমনকি ‘সব ধ্বংস করে দেওয়া হবে’ ধরনের কঠোর হুমকিও। কিন্তু বাস্তবে ইরান তার শর্ত পূরণ না-করলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই হুমকি বাস্তবায়ন করেনি।

প্রথমে ২১ মার্চ তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা না-হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দেন। কিন্তু ২৩ মার্চের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি তা ২৮ মার্চ পর্যন্ত বাড়ান এবং বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে। যদিও ইরান সে দাবি অস্বীকার করে।

পরে ২৬ মার্চ আবার সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয়। ট্রাম্প বলেন, ইরান সময় চেয়েছে এবং আলোচনা ভালো চলছে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, প্রকৃত আলোচনা হয়নি।

এই সময় ট্রাম্প আরও কড়া শর্ত দেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দেন। ৬ এপ্রিল আবার সময়সীমা বাড়িয়ে ৭ এপ্রিল করা হয়। ট্রাম্প বলেন, ইস্টারের কারণে তিনি সময় দিয়েছেন। একইসঙ্গে আবারও হুমকি দেন, শর্ত না মানলে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।

৭ এপ্রিল তিনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে তখনও ইরান তার কোনো শর্ত পূরণ করেনি। যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে।

এরপর ২১ এপ্রিল তিনি আবারও অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সময় বাড়ান। এবার তিনি যুক্তি দেন, ইরানের সরকার ‘অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল’। তবে একই বক্তব্যে তিনি এটিও বলেন যে, এমন অবস্থা ‘অপ্রত্যাশিত নয়’, যা তার আগের কঠোর সময়সীমার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সূত্র বলছে, নতুন সময়সীমা সীমিত হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো বিশ্ব পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে ইরান এখন মনে করতে পারে যে, ট্রাম্প তার হুমকি বাস্তবায়নে অনিচ্ছুক।

এ প্রসঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সিরিয়া ইস্যুতে ‘রেড লাইন’ কার্যকর না করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প নিজেই একসময় বলেছিলেন, এমন ব্যর্থ হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে।

২০১৭ সালে ট্রাম্প বলেন, হুমকি দিয়ে তা কার্যকর না করলে দেশ হিসেবে আমাদের ক্ষতি হয়। আর ২০১৬ সালের এক ভাষণে তিনি ওবামার নীতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ