যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, গত ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল ইরান, কিন্তু এখন আর সেটি নেই। ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) পেন্টাগনে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ইরান যদি আলোচনায় না আসত এবং যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হতো, তাহলে কি প্রেসিডেন্ট ইরানকেপুরোপুরি ধ্বংস করতে প্রস্তুত ছিলেন?— এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, “আমি যেমনটি বলেছি, অবকাঠামো—সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র—এসব লক্ষ্য করে আমাদের প্রস্তুত অবস্থায় পরিকল্পনা ছিল।”
ইরানকে একটি ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করে হেগসেথ দাবি করেন, ‘ইরান বুঝতে পেরেছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সক্ষমতা ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে, এগুলো ধ্বংস করলে পুনর্গঠন করতে ইরানের কয়েক দশক সময় লাগত, এবং এ কারণেই তারা আলোচনায় এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের হুমকিই তাদের এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে তারা কার্যত বলেছে—আমরা এই চুক্তি করতে চাই।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এই যুদ্ধবিরতির জন্য আকুল আবেদন করেছে ইরান এবং আমরা সবাই এটা জানি। ইরানের পুরো অর্থনীতিকে চূর্ণ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছিল। কিন্তু তিনি ক্ষমাকে বেঁছে নিয়েছেন।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তার বক্তব্য শুরু করেন যুদ্ধে নিহত ১৩ জন মার্কিন সেনাকে স্মরণ করে।
তিনি বলেন, ‘তাদের প্রত্যেকের জন্য আমরা কৃতজ্ঞএবং তাদের মৃত্যুতে আমরা শোক জানাতে থাকব’।
তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যগুলোর কথা তুলে ধরেন—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত নিশ্চিহ্ন করা।
কেইনের ভাষায়, ৩৮ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী এসব লক্ষ্য অর্জন করেছে।
যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যুদ্ধবিরতি মানে একটি বিরতি। প্রয়োজনে বা নির্দেশ পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা গত ৩৮ দিনে যে গতি ও নির্ভুলতা দেখিয়েছে, ঠিক সেই ভাবেই আবার যুদ্ধ অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে—এবং আমরা আশা করি, এমনটা করতে হবে না”।
সূত্র: বিবিসি
আইও/