পবিত্র নগরী মক্কা-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের শিয়া মতাদর্শী সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন উম্মুল মাদারিস আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী। তিনি পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী বলেন, পবিত্র মক্কা-মুকাররমা সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও ইবাদতের কেন্দ্রস্থল। বায়তুল্লাহ ও হারামাইন শরীফাইনের পবিত্রতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। মক্কা-মুকাররমার ওপর হামলা কিংবা সেখানে হামলার যেকোনো অপচেষ্টা শুধু একটি নগরীর বিরুদ্ধে আগ্রাসন নয়; বরং তা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয় ও ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাতের শামিল। পবিত্র এই নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের দুঃসাহসিকতা মুসলিম বিশ্ব কখনোই মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং সেটিকে হুতিদের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মক্কা-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে এ ধরনের অপচেষ্টা অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয়। পবিত্র বায়তুল্লাহর নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে যারা হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তাদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কোনো অজুহাতেই পবিত্র মক্কা-মুকাররমা ও মসজিদুল হারামকে লক্ষ্যবস্তু করা বা এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া যায় না। মক্কা-মুকাররমা ও মদিনা-মুনাওয়ারা কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র নয়; এগুলো সমগ্র মুসলিম উম্মাহর পবিত্র আমানত। হারামাইন শরীফাইনের দিকে অস্ত্র তাক করা কিংবা সেখানে হামলার অপচেষ্টা করা মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় চেতনা ও পবিত্র অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর বলেন, পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো মুসলিম বিশ্বের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে মক্কা-মুকাররমা ও মসজিদুল হারামের পবিত্রতা ও নিরাপত্তাকে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে কেউ যদি পবিত্র ভূমির দিকে হামলার হাত বাড়ানোর কিংবা এ ধরনের অপচেষ্টা চালানোর দুঃসাহস করে, তাহলে মুসলিম বিশ্ব তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করবে- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব সরকারের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্র ও ইসলামি সংস্থার প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মক্কা-মুকাররমা, মদিনা-মুনাওয়ারা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানকে সব ধরনের সামরিক সংঘাত, আগ্রাসন ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষাংশে আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী বলেন, হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঈমানী অনুভূতি ও সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়। এ বিষয়ে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি পবিত্র হারামাইন শরীফাইন, সৌদি আরব এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র, আগ্রাসন, বিপদ-আপদ ও অনিষ্ট থেকে হিফাযত করার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।
এসএইচ/