|| মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন গাজী ||
এলজিবিটি মতবাদ এবং সাধারণ সমকামিতার অপরাধের মধ্যে ব্যবধান আছে। শরিয়ার দৃষ্টিতে এলজিবিটি মতবাদ একটি কুফরি মতবাদ, যাতে কেউ বিশ্বাস করলে কাফের হয়ে যাবে। কারণ, এ মতবাদে সমকামিতাকে শুধু হালাল নয়, বরং অধিকার মনে করা হয়, যা পরিষ্কার কুফর।
পক্ষান্তরে যারা নফসের তাড়নায় কিংবা শয়তানের প্রবঞ্চনায় পড়ে সমকামি কাজে লিপ্ত হয়, কিন্তু একে একটি গুরুতর অপরাধ মনে করে; তা হলে সে কাফের হয়ে যাবে না। যদিও সে কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ করেছে। গোপনে করে থাকলে তওবা করা আবশ্যক, আর আদালতে প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া আবশ্যক।
এলজিবিটি মতবাদীরা একে আইডিওলজি হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, কিন্তু সাধারণ সমকামীরা নিজেরা অপরাধী হলেও সমাজে এর বিস্তার কামনা করে না। যেকারণে ঘরে বা বাইরে এ পাপ দেখলে সে রাগান্বিত হয়, যেভাবে যেনাকার ও চোর কখনো তার সন্তানদের মধ্যে চুরি ও যেনার বিস্তার চায় না।
বিষয় দুটির মধ্যে ব্যাবধান মনে রাখা জরুরি। নতুবা সাধারণ সমকামী অপরাধীকেও এলজিবিটি অপরাধীর সমান মনে করা হবে।
এ দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য জানা না-থাকার কারণে দুটি বড় ধরণের অসুবিধা হচ্ছে।
প্রথমত, জীবনে যৌবনে ভুল করে কখনো সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার কারণে এখন অনেকে এলজিবিটির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করতে সাহস পায় না। সে মনে করে আমিও তো এমন ছিলাম বা এমন করে থাকি। অথচ এ লোক একে অপরাধ মনে করেছে, যেকারণে এহেন ঘৃণিত কুকাজ থেকে তওবাও করেছে। কিংবা তওবা করার প্রয়োজনবোধ করে।
পক্ষান্তরে এলজিবিটি হলো এ মতাবলম্বীদের অধিকার, যা থেকে সে তওবা করার প্রয়োজনই বোধ করে না। কারণ, একে সে পাপই মনে করে না।
দ্বিতীয়ত, কোনো কোনো ধর্মীয় মহলের প্রতি অনেকে সমকামিতার ট্যাগ দিয়ে তাদেরকে প্রায়শ অপমান অপদস্ত করতে দেখা যায়। যদিও ধর্মীয় মহলের বাইরে এ কুকাজ কয়েকগুণ বেশি সংঘটিত হয়, যা পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়ার কারণে সাধারণত চাউর হয় না, এবং তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এ সমালোচকদের একটি অংশ এদের ভুল তৎপরতাকে এলজিবিটির সমান অপরাধী মনে করে। যে কারণে ওই ধর্মীয় মহল এলজিবিটির বিরোধিতা করলে তাদেরকে নানানভাবে খোঁচা দেয়। অথচ সমকামিতার কর্ম ও এলজিবিটি দর্শনের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। একটি মহাপাপ হলেও কুফর নয়, কিন্তু এলজিবিটি তো ঈমানবিনাশী কুফর।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হল, সমালোচকদের একটি অংশ ওই ধর্মীয় ঘরানাকে সমকামিতার জন্যে অপমান করলেও এলজিবিটির অধিকারকে পুরোপুরি সমর্থন করে, কিংবা এ ব্যাপারে খুব নমনীয়। অর্থাৎ এরা গুরুপাপীর পক্ষ নিয়ে তদাপেক্ষা লঘুপাপীর বিরুদ্ধোচরণ করে বেশ মজা উপভোগ করে। একই বিষয়ে কমমাত্রাকে তারা অপরাধ মনে করে, কিন্তু চূড়ান্ত মাত্রাকে বৈধ মনে করে। কি আশ্চর্য স্ববিরোধিতা।
সমকামিতা অবশ্যই অপরাধ ও মহাপাপ। আর মহাপাপ মানে কুফরের পূর্বাভাস। কাজেই কোনোভাবেই একে প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। সেটা যদি কোনো ধর্মীয় লেবাসধারী মানুষ দ্বারা সংঘটিত হয়, তখন সেটি আরও বড় অপরাধ হয়ে যায়। কিন্তু সেটা এলজিবিটির সমান অপরাধ নয়। এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বড়টিকে প্রশ্রয় দিয়ে ছোটটির বিরোধিতার কোনো মানে হয় না। কিংবা কারও ব্যক্তিগত স্খলনের কারণে তার দাওয়া প্রক্রিয়াকে হালকা করে দেওয়া উচিত নয়।
দাঈদের কারও মধ্যে প্রথমজীবনে কখনো যদি এরূপ পাপকাজ হয়ে থাকে, আর সে তওবা করে থাকে, তা হলে নির্দ্বিধায় এলজিবিটি ও সমকামিতার পাপের বিরুদ্ধে দাওয়াতের কাজ করতে থাকুন।
যদি এখনো তওবা করেননি, কিন্তু এ কুকাজকে হারাম ও অপরাধ মনে করেন, তবুও এর বিরুদ্ধে দাওয়াত দিতে অসুবিধা নেই। কারণ, দাঈ পাপী হলেও পাপীর বিরুদ্ধে দাওয়াতের কাজ করতে পারে। বরং এটি তার ওই গুনাহর বদঅভ্যাস ত্যাগে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এলজিবিটি তো কুফরিদর্শন, যেকোনো মুসলিমই এ কুফরের বিরুদ্ধে দাওয়াতি কাজ করতে পারে। হোক না সে বেনামাজি বা ব্যক্তিগতভাবে সমকামিতার পাপে পাপী। যদিও তার উচিত এহেন বদ অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করা এবং তড়িৎ তওবা করা।
লেখক: মাদরাসা শিক্ষক, লেখক ও চিন্তক
