বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ। তিনি বলেছেন, সীমান্তে ভারতীয়দের পুশইনের চেষ্টা এবং নাগরিকত্ব প্রশ্নে ভারতের নীতিগত অবস্থান বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ খাতে অতীতের দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করেন।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের সাম্প্রতিক তৎপরতা উদ্বেগজনক। ভারত সীমান্ত এলাকায় বহু মানুষকে জড়ো করছে এবং তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণ এসব অপচেষ্টা প্রতিরোধে কাজ করলেও কেবল সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিবের দাবি, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং বিশেষ নিবন্ধন কার্যক্রমের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অতীতে বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখা হলেও এর প্রভাব এখন বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টিকে শুধুমাত্র সীমান্ত সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। যথাসময়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে এটি ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সংকটের মতো আরেকটি বড় মানবিক ও জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে। এজন্য তিনি সরকারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, বিদ্যুৎ খাতে নীতিগত দুর্বলতা এবং অতীতের অনিয়মের দায় এখন সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপক অপচয় ও লুটপাট হয়েছে। পিডিবির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
তার ভাষায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৃত ব্যয়ের বড় একটি অংশ এখন ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে সরকার ইতোমধ্যে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করেছে।
তিনি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে বিদ্যুৎ খাতে সম্পাদিত বিতর্কিত চুক্তিগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি কোনো স্বাভাবিক ব্যবসা ছিল না, বরং পরিকল্পিত লুটপাট ছিল। এর দায়ভার জনগণের ওপর চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন নগর জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ আবদুর রাজ্জাক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরের সহ-সভাপতি আলহাজ আলতাফ হোসেন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক মৃধা, গোলামুর রহমান আজম, মাওলানা কামাল হোসেন, মাওলানা ইসমাইল হোসেন, মুফতি আবদুল আহাদ, মাওলানা আবদুর রহমান, আল-আমীন আল ইহসান, শেখ আবু তাহের এবং বিভিন্ন থানা শাখার নেতৃবৃন্দ।
আরএইচ/