|| ইমরান ওবাইদ ||
মোবাইল বর্তমানে সর্বসময়ের সঙ্গী। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। কেউ ফোন করলে তা সহজে বোঝার জন্য আমরা রিংটোন সেট করি। কখনো কল সেটিংয়ে থাকা স্বাভাবিক কোনো সাউন্ড, তো কখনো পছন্দের কোনো মিউজিক। তবে এখানেও রয়েছে ইসলামের কিছু বিধিনিষেধ, যা একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের জানা ও মেনে চলা আবশ্যক।
রিংটোন হিসেবে স্বাভাবিক কোনো সাউন্ড ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। তবে মিউজিকযুক্ত রিংটোন ব্যবহারে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মতে মিউজিকযুক্ত রিংটোন ব্যবহার করা নাজায়েজ। গুনাহের কারণ। কেননা, হারাম গান-বাজনা শোনা ও ব্যবহার করা হারাম। সুতরাং তা রিংটোন হিসেবে সেট করাও হারাম। আমাদের এ থেকে বিরত থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, “কিছু কিছু মানুষ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথা ক্রয় করে এবং তারা তা (আল্লাহর পথ) নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।” — (সূরা লোকমান: ৬)
প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) “লাহওয়াল হাদিস”-এর তাফসিরে বলেন, এর অর্থ হলো গান ও বাদ্যযন্ত্র।
এছাড়াও মোবাইলে হারাম মিউজিক সেট করা থাকলে অসাবধানতাবশত তা মসজিদে বা কোনো দ্বীনি মজলিসে বেজে ওঠার শঙ্কা থাকে, যা মসজিদের সম্মান নষ্ট করে এবং আমলে বিঘ্ন ঘটায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তার চেয়ে বড় জালেম আর কেউ নেই, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বাধা দেয় এবং সেগুলো বিরান করার চেষ্টা করে।” — (সূরা বাকারা: ১১৪)
সুতরাং একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত, মিউজিক ব্যতীত কোনো রিংটোন ব্যবহার করা এবং নামাজের সময় ফোন সাইলেন্ট মোডে রাখা। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
আইও/