শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৩ রজব ১৪৪৭


পাগলা মসজিদের সিন্দুকে রেকর্ড ১২ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আবারও দানের স্রোত। চার মাস ১৭ দিন পর শনিবার সকাল ৭টায় খোলা হয় মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স। বাক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে টাকার স্তুপ।

টাকা ভরতে ব্যবহার করা হয় ৩২টি বস্তা। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় চলে সারাদিনের গণনা। টানা ১৩ ঘণ্টার পর রাত ৮টায় গণনা শেষে পাওয়া যায় ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা, যা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দানের রেকর্ড।

গণনায় অংশ নেন সাড়ে চার শতাধিক কর্মী—এর মধ্যে ছিলেন মসজিদের কর্মচারী, মাদরাসাশিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা। পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেনা, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা। তদারকি করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে স্বর্ণালঙ্কার, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা। এ ছাড়া এবার প্রথমবারের মতো অনলাইনে দানের ব্যবস্থাও করা হয়, যেখান থেকে এসেছে পাঁচ লাখ টাকার বেশি।

এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলা হলে মেলে ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি। এবারের দান সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, দানকারীদের বিশ্বাস—এখানকার দান মনোবাসনা পূর্ণ করে। অনেকেই সুস্থতা ও মনের শান্তির জন্য দান করেন। শুধু মুসলমান নয়, সব ধর্মের মানুষই এখানে দান করেন। কেউ নগদ অর্থ, কেউবা গরু, ছাগল কিংবা হাঁস-মুরগি দেন। তিনি জানান, দানের অর্থ দিয়ে শিগগিরই শতকোটি টাকা ব্যয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের বহুতল ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, গণনা প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানায়, ব্যাংকে জমা থাকা তহবিলের লভ্যাংশ থেকে ক্যান্সার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করা হয়। সেই অর্থে একটি মাদরাসাও পরিচালিত হচ্ছে।

তিনতলা বিশিষ্ট এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ কিশোরগঞ্জবাসীর বিশ্বাস ও আবেগের কেন্দ্রস্থল। তিন গম্বুজ, উঁচু মিনার ও পাঁচতলা ভবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা স্থাপনাটি আজ মানুষের ভালোবাসা ও দানের অসীম শক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ