বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি সিলেটে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু বরুড়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিষদের উদ্যোগে সিরাত সম্মেলন ২৭ আগস্ট কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নোটিশ রুহামা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত কনফারেন্স আগামীকাল ‘সিরাতুন্নবীর আলোকে দেশ পরিচালনা করলেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে’ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ‘মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি’ বিরিশিরিতে আঞ্চলিক কনফারেন্স আগমী শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা, কোনো অজুহাত চলবে না’ 

হিজরি বর্ষের প্রথম মাস ‘মহররম’-এর ফজিলত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| ইনজামামুল হক ||

হিজরি সনের প্রথম মাস ‘মহররম’। এই মাসটিকে ইসলামের অন্যতম পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লাহ তায়ালা এই মাসকে চারটি ‘হারাম’ (পবিত্র) মাসের একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার পবিত্রতা কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে। আল্লাহর কাছে গণনায় মাস বারটি, তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন। কাজেই এর মধ্যে তোমর নিজেদের প্রতি যুলুম করো না এবং তোমরা মুশরিকদের সাথে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে থাকে। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন। (সূরা আত-তাওবা, আয়াত ৩৬)

মহররম মাসের কিছু ফজিলত ও মাহাত্ম্য জেনে নেয়া যাক। এই মাসটির নাম মহররম করা হয়েছে এটির পবিত্রতার কারণে। ‘মুহাররম’ শব্দের অর্থই হলো ‘নিষিদ্ধ’ বা ‘পবিত্র’, যা নির্দেশ করে যে, এই মাসে পাপ কাজ আরো ভয়াবহ এবং সওয়াবের কাজ বেশি প্রতিদানযোগ্য হয়। হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “বর্ষে বারোটি মাস, যার মধ্যে চারটি পবিত্র: জিলক্বদ, জিলহজ্জ, মহররম এবং রজব।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ২৯৫৮)

এই মাসে নফল রোযার বিশেষ ফজিলত

নবী করিম (সা.) বলেন, “রমাদানের পর সবচেয়ে উত্তম রোযা হলো আল্লাহর মাস—মহররমে রোযা রাখা।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৮২)

এখানে “আল্লাহর মাস” বলার মাধ্যমে মহান আল্লাহ মহররম মাসকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। যদিও পুরো মাস রোযা রাখা ফরয নয়, তবে যত বেশি সম্ভব নফল রোযা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

আশুরা দিবস: মহররমের বিশেষ দিন

মহররমের ১০ তারিখ ‘ইয়াউমে আশুরা’ নামে পরিচিত। যা ইসলামের ইতিহাসে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নীরব সাক্ষী। এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা ফেরাউন থেকে মুক্তি পান। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দিনে আশুরার রোযা রাখতেন এবং তা রাখার জন্য সাহাবিদের অনেক উৎসাহ দিতেন।

মুসলমাদের জন্য মহররমের গুরুত্ব

মহররম মাসে সারা বিশ্বের মুসলিমরা আত্মশুদ্ধি, তওবা, নফল ইবাদত, দান ও সহানুভূতির কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এটি নতুন হিজরি বর্ষের সূচনা হলেও শুধুই আনন্দ নয়, বরং আত্মশুদ্ধির সময় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

মহররম মাস শুধু একটি পবিত্র মাস এমন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের জন্য একজন মুসলমানের সুবর্ণ সুযোগ। এ মাসে পাপ থেকে বিরত থেকে বেশি বেশি ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য সুযোগও বটে।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ