মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


ফিলিস্তিনের যুদ্ধ-ধ্বংসের দৃশ্য দেখে ব্রিটিশ নারীর ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনে চলমান যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য বদলে দিয়েছে ব্রিটিশ নারী গ্রেসের জীবন। ফিলিস্তিনিদের অটুট ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা তাকে ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য গভীরভাবে আগ্রহী করে তোলে। প্রায় আট মাসের চিন্তা, গবেষণা ও অনুসন্ধানের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

গ্রেসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের আগে তার জীবন ছিল অনেকটা উদ্দেশ্যহীন ও অস্থির। তিনি মাদকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করতেন এবং জাদু ও বিভিন্ন পৌত্তলিক বিশ্বাসের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলায়ও তিনি কোনো শক্তিশালী ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেননি। আধ্যাত্মিক প্রশান্তির সন্ধানে থাকলেও কোথাও স্থায়ী শান্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি বোঝা এবং নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের আরও ভালোভাবে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে তিনি এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি প্রশ্ন তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে—তীব্র বোমাবর্ষণ, ক্ষুধা এবং প্রিয়জনদের মৃত্যুর মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা কীভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং আশাবাদী থাকেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে গ্রেসের হাতে আসে পবিত্র কোরআন। তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রায় আট মাস ধরে নানা প্রশ্ন, চিন্তাভাবনা ও নিজের পুরোনো বিশ্বাসকে নতুন করে পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় বেশ কিছু ঘটনাকে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিজের জন্য হেদায়াতের পথ খুলে দেওয়া হিসেবে মনে করেন। এর মধ্যে এক নতুন মুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের ঘটনাটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

অবশেষে গত ৯ জুলাই কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন গ্রেস।

ইসলাম গ্রহণের পর তার জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে জানান তিনি। তার দাবি, ইসলাম তাকে মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে। তিনি মাদক ছেড়ে দিয়েছেন এবং বাবার সঙ্গে সম্পর্কও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে।

ইসলাম গ্রহণের পর প্রথমে হিজাব এবং পরে নিকাব গ্রহণ করেন গ্রেস। তার কাছে হিজাব ও নিকাব শুধু পোশাক নয়; বরং এগুলো শালীনতা, সুরক্ষা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।

নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গ্রেস বলেন, যে ব্যক্তি সত্যের সন্ধানে আন্তরিক, তার প্রশ্ন করতে, গবেষণা করতে এবং সত্য অনুসন্ধান করতে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আন্তরিকতার সঙ্গে সত্যের পথে অনুসন্ধানের এই যাত্রা মানুষকে কখনো হতাশ করে না।

সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ