আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশি মুসলিমদের জন্য পবিত্র মক্কা ও মদিনায় স্থায়ীভাবে সম্পত্তির মালিক হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত করেছে সৌদি আরব। দেশটির মন্ত্রিসভা গত ২৩ জুন বাদশাহ সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণ এবং ধর্মীয় পর্যটন খাতকে আরও সম্প্রসারণ করা।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র মুসলিম বিদেশি নাগরিকরাই মক্কা ও মদিনার নির্ধারিত এলাকায় সম্পত্তি কিনতে পারবেন। অমুসলিমদের জন্য আগের মতোই এ দুই পবিত্র নগরীতে প্রবেশ ও সম্পত্তির মালিকানা—উভয়ই নিষিদ্ধ থাকবে।
নির্ধারিত এলাকাতেই সম্পত্তি কেনা যাবে
মক্কার সব এলাকায় সম্পত্তি কেনা যাবে না। সরকার নির্ধারিত বিশেষ জোনের মধ্যে রয়েছে জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, তিলাল ভিলেজ ও মাসার। আর মদিনায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রুয়া আল-মাদিনা, ডাউনটাউন মদিনা ও নলেজ ইকোনমিক সিটিসহ আরও কয়েকটি এলাকা। এসব প্রকল্প পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী-এর কাছাকাছি অবস্থিত।
যেভাবে আবেদন করতে হবে
বিদেশি মুসলিমদের Saudi Properties প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদি আরবে বসবাসকারীরা তাদের ইকামা ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরে অবস্থানকারীদের প্রথমে নিজ দেশের সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে একটি ডিজিটাল আইডি সংগ্রহ করতে হবে।
প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির সুযোগ
যদি কোনো বিদেশি মুসলিম সম্পূর্ণ নির্মিত, কমপক্ষে ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল মূল্যের একটি সম্পত্তি নগদ অর্থে (কোনো ঋণ বা মর্টগেজ ছাড়া) ক্রয় করেন, তাহলে তিনি সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়ার যোগ্য হবেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত
দীর্ঘদিন ধরে বিদেশিরা মক্কা ও মদিনায় কেবল ৯৯ বছরের লিজ নিতে পারতেন; স্থায়ী মালিকানা অর্জনের সুযোগ ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মিসরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা প্রথমবারের মতো পবিত্র দুই নগরীর নির্ধারিত এলাকায় স্থায়ীভাবে সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন।
সৌদি আরব ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩ কোটি ওমরাহ যাত্রী গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রকল্পগুলোতে সম্পত্তির মূল্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন
আইও/