আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতে জুমার খুতবায় ইমাম ও খতিব শায়খ সালাহ আল-বুদাইর প্রচণ্ড গরমকে আখেরাতের স্মরণ এবং আল্লাহর রহমত অর্জনের একটি উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মুসল্লিদের তাকওয়া অবলম্বন, গুনাহ থেকে তাওবা এবং তৃষ্ণার্ত মানুষ ও সৃষ্টিজগতের সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) খুতবায় শায়খ সালাহ আল-বুদাইর বলেন, বর্তমানের তীব্র গরম ও দাবদাহ মানুষকে জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে অভিযোগ করেছিল। তখন তাকে বছরে দুটি নিঃশ্বাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়—একটি শীতকালে এবং অন্যটি গ্রীষ্মকালে। মানুষের অনুভূত এই প্রচণ্ড গরম সেই গ্রীষ্মকালীন নিঃশ্বাসেরই প্রভাব।
তিনি মুসলমানদের উদ্দেশে বলেন, জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং মৃত্যু অত্যন্ত সন্নিকটে। তাই সময় শেষ হওয়ার আগেই গুনাহ থেকে তাওবা করে নেক আমল সঞ্চয় করতে হবে এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
খুতবায় তিনি বিশেষভাবে তৃষ্ণার্তদের পানি পান করানোর ফজিলত তুলে ধরেন। তিনি একটি হাদিসে কুদসির আলোকে বলেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বলবেন, আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। অর্থাৎ আল্লাহর কোনো তৃষ্ণার্ত বান্দা তার কাছে পানি চেয়েছিল; সে যদি তাকে পানি পান করাত, তবে তার প্রতিদান আল্লাহর কাছেই পেত।
শায়খ সালাহ আল-বুদাইর সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বা বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা নেই, এমন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি রাস্তা, বাজার ও মসজিদে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নলকূপ ও কূপ খনন এবং জনসাধারণের জন্য ওয়াটার কুলার স্থাপনে উৎসাহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, পানি পান করানোর সওয়াব শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো মানুষ, পাখি, প্রাণী বা আল্লাহর যেকোনো সৃষ্টিই যদি সেই পানি পান করে উপকৃত হয়, তবে আল্লাহ তাআলা এর প্রতিদান দান করবেন।
খুতবার সমাপ্তিতে তিনি মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তা, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করেন। পাশাপাশি দুই পবিত্র মসজিদের খাদেমের জন্য দোয়া করেন এবং বিশেষভাবে ফিলিস্তিনের মজলুম মুসলমানদের সাহায্য, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্রুত বিজয় কামনা করেন। সূত্র: হারামাইন সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেইজ
আরএইচ/
