বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ।। ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৫ সফর ১৪৪৮


জাপানের ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৩


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাপানে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে হওয়া ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে কুমামোতো শহরের কাছে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া জীবিতদের বের করে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

ভূমিকম্পের একদিন পর বুধবার রাজধানী টোকিওতে নিজের দপ্তরে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, “এমনকি এখনও সেখানে মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় আছে আর এটি সময়ের বিরুদ্ধে একটি পাল্লা। যত বেশি সম্ভব মানুষকে বাঁচাতে ও উদ্ধার করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে থাকা সব সম্পদ কাজে লাগাবো।”

রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে ও রাস্তাগুলো ফেটে যায়।

বুধবার ভোররাতে উদ্ধারকারীরা আংশিক ধসে পড়া একটি শপিং মলের ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনে। ভূমিকম্পের প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে অজ্ঞাত উৎস থেকে ঘটা এক বিস্ফোরণে শপিং মলটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এখানে বিশোধ্র্ব দুই নারী নিহত হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণ এর কারণ কি না, কর্তৃপক্ষ তা তদন্ত করে দেখছে।

দমকলের জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শপিং মলটির সেইসব অংশের দিকে মনোযোগ দিচ্ছিল যেখান থেকে সাহায্য চেয়ে ফোন এসেছিল।

জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, শপিং মলটির প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী মঙ্গলবার পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল। নিপ্পন পেপার ইন্ডাষ্ট্রিজের একটি চিমনি ধসে আরও সাতজন জন নিখোঁজ ও আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, তারা বহু আহতকে চিকিৎসা দিচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচারের প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে হওয়া এই ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কিউশু দ্বীপের ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীরে। কেন্দ্রস্থলটি অগভীর হওয়ায় শক্তিশালী পরাঘাতের (আফটারশক) বিষয়ে সতর্ক করেছে আবহাওয়া সংস্থা। ইতোমধ্যে ১ থেকে ৬ তীব্রতার অন্তত ৬১টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র কুমামোতো শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। এই শহরটির বাসিন্দা সাত লাখ আর এটি কিউশু দ্বীপের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বৃহত্তম শহর।

 

যে সব অঞ্চলে সবচেয়ে বড় কম্পন অনুভূত হয়েছে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আরও শক্তিশালী পরাঘাতের পাশাপাশি ভূমিধসের ঝুঁকির জন্য সতর্ক থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার কিউশু দ্বীপে তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। ভূমিকেম্পর পর থেকে সেখানে এখনও ৩৬ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। এ পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্নবোধ করছে।

জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। এখানে প্রতি পাঁচ মিনিটে অন্তত একটি ভূমিকম্প হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর উপকূলজুড়ে বিস্তৃত ‘রিং অফ ফায়ার’ এর উপর অবস্থিত হওয়ায় বিশ্বের ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার বা তারে চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ২০ শতাংশ জাপানে হয়।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ