শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৮ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩ রুপসায় ইসলামী আন্দোলনের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম ‘বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার পরিপন্থী’ মানুষ গড়ার প্রথম প্রতিষ্ঠান মসজিদ: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি সড়কে প্রাণ হারানো কুরআন শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন নোয়াখালীতে ইসলামি মহাসমাবেশ কাল, অতিথির তালিকায় রয়েছেন যাঁরা মেলায় আল-ওয়াসির আকর্ষণীয় অফার, প্রি-রেজিস্ট্রেশনেই মিলছে বিশেষ গিফট বক্স ‘জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি সরকারের জন্য শুভকর হবে না’

দাঁড়িয়ে পানি পান: সুন্নতের খেলাফ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| ইমরান ওবাইদ ||

পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য অনেক জরুরি। প্রতিদিন পরিমিত পানি পান করা ছাড়া সুস্থ জীবন-যাপন অসম্ভব। তবে ভুল পদ্ধতিতে পানি পানও হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। কিডনি, লিভারের মতো দেহের গুরুত্বপূর্ণ কোষে দেখা ‍দিতে পারে নানা জটিলতা। বাসা বাঁধতে পারে প্রাণঘাতী রোগ।

পানি পানের ভুল পদ্ধতি ও ক্ষতির দিক:

দাঁড়িয়ে, শুয়ে বা হাঁটাচলা করে পানি পান করা সঠিক পদ্ধতি নয়। এটি সুন্নতের পরিপন্থীও। এক হাদিসে আছে, হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। (হাদিস বর্ণনাকারী) কাতাদা বলেন, আমরা আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম তাহলে দাঁড়িয়ে খাওয়া কেমন? তিনি বললেন, এটা তো আরও মন্দ কাজ। (সহিহ মুসলিম: ২০২৪) 

কোনো ওজর ছাড়া দাঁড়িয়ে খাওয়া বা পান করা উচিত নয়। এতে স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে দেখা দেয় নানা জটিলতা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:  

১. হজমের সমস্যা: দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা পাকস্থলীতে সরাসরি আঘাত করে। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। হজমে সমস্যা হয়। বদহজমের ঝুঁকি বাড়ে।

২. কিডনির ওপর প্রভাব: দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে শরীরে তা দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে কিডনি ঠিক মতো ফিলটার করতে পারে না। যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

৩. বাতের সমস্যা: দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে শরীরের ভেতরকার তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়। যা জয়েন্টের ব্যথা বা বাতের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৪. অতিরিক্ত চাপ বৃদ্ধি: দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা দ্রুত প্রবাহিত হয়। যা  ফুসফুস ও হার্টের  কার্য ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে শরীরকে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। 

পানি পানের সঠিক ও সুন্নত পদ্ধতি:

প্রতিটি জিনিসের সঠিক ও সুন্নত পদ্ধতি রয়েছে। পানি পানের ক্ষেত্রেও আছে। যা আমাদের মেনে চলা উচিত। 

১. বসে পান করা: স্থির হয়ে বসে পানি পান করা। এটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সার্বক্ষণিক অভ্যাসের একটি। এবং ডাক্তারদের মতে–এভাবে পানি পান শরীরের জন্য নিরাপদ ও উপকারী। এতে শরীর ও মন–দুটোই আরাম পায়। নতুন করে কাজের উদ্যমতা বাড়ে।

২. ডান হাতে পান করা: নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা বাম হাতে খেয়ো না। কারণ, শয়তান বাম হাতে খায়। (ইবনে মাজাহ: ৩২৬৮)। ভালো কাজে ডান হত ব্যবহার রুচিশীলতার পরিচায়ক। পানি পান একটি ভালো কাজ। ভদ্র সমাজ বা-হাতে পানাহার নিন্দার চোখে দেখে। 

৩. তিন শ্বাসে পান করা: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা উটের মতো এক চুমুকে পানি পান করো না; দুই-তিন শ্বাসে পান করো। ( তিরমিজি শরিফ: ১৮৮৫)

তিন শ্বাসে পানি পানের মাধ্যমে উত্তমরূপে তৃষ্ণা নিবারণ হয়। এবং শ্বাস আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রিরাপদ থাকা যায়।

৪. পাত্রে শ্বাস না ফেলা: নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা (পান করার সময়) পাত্রে শ্বাস ফেলো না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫৪)

ডাক্তারদের মতে–-পানি পানের সময় পাত্রে শ্বাস ফেললে, নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া জীবাণু পানির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। যা পুনরায় শরীরের ভেতর গিয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

লেখক: সাব-এডিটর, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ