প্রায় সোয়া ৭০০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকার। প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা গণনা শেষে মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ নগদ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ৩১০টি ছাগল দান হিসেবে পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় দানবাক্সগুলো ও ঐতিহাসিক পিতলের তিনটি ডেকচির দানের টাকা একত্র করে গণনা শুরু হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।
গণনা শেষে বিকেল ৬টার পর প্রাপ্তির হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা প্রশাসক আবদুল আল মামুন।
তিনি জানান, দানের টাকা গণনায়- নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ নগদ টাকা এবং ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রিটেনের ১৪ পাউন্ড, ভারতের ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, ১৩ দশমিক ৫০ ওমানী রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১৭ কাতার রিয়াল, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিহরাম, ১০০ বাহরাইনি দিনার, ২৯ মার্কিন ডলার এবং ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট।
গত ৩৫ দিনে দরগাহ মাজারে ৩১০টি ছাগল দান হিসেবে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২১০টি লঙ্গরখানায় রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে, ২৭টি দিয়ে শিন্নি রান্না করে সবার মাঝে বিতরণ হয়েছে।
৪৮টি ছাগল খাদেমদের দেওয়া হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা শেষে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ। এ ছাড়া এ সময়ে ৬টি গরু ও ১১১টি ছাগলও দান হিসেবে পাওয়া যায়।
এর আগে ১৫ আগস্ট দানবাক্স বাক্স খোলা হয়েছিল।
সেদিন গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রূপার সামগ্রী পাওয়া যায়।
সর্বপ্রথম গত ২২ জুন দানবক্স প্রকাশ্যে খুলে গণনা করা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় ওইদিন অর্থ গণনা শেষে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা সোনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি গরু, ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
এদিকে মাজারের আয়-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে স্থানীয় সংসদসদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউজে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর ১১ জুলাই তাদের তত্ত্বাবধানে প্রথমবার টাকা গণনা হয়। শনিবার চতুর্থবারের মতো টাকা গণনা হয়।
এসএইচ/