বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ।। ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বিশেষ ইমাম প্রশিক্ষণ এবার রাজশাহীতে কুরআন, কাবা ও ‘পাই’ (π): এক বিস্ময়কর সংখ্যার ইঙ্গিত দিরাই জামেয়ার মুহতামিম হলেন ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ ময়মনসিংহে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অতঃপর ডাকাতি কওমি মাদরাসার অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথ কোথায় ময়মনসিংহে হিজরি সন নিয়ে সীরাতকেন্দ্রের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সুলতানি আমলের প্রাচীন গৌড়ের সোনামসজিদ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল আফগান ব্যাংকিং খাত মসজিদের মাইক কিনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন দুই ভাই কাবার চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী সরানো হবে শুক্রবার সকালে

১ মাসের মধ্যে মৃতুদণ্ডের রায় বাস্তবায়ন চায় আয়াতের বাবা-মা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

চট্টগ্রামের ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবির আলীকে আজ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আয়াতের বাবা-মা। এখন একমাসের মধ্যে এই রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রাম আদালতে রায় ঘোষণার পর নিহত শিশু আয়াতের বাবা ও মামলার বাদী সোহেল রানা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রায়ের আদেশে খুশি। আমি এক মাসের মধ্যে আসামির ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকর চাই। নইলে আসামিরা উৎসাহিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে ঘটনাটিকে পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আলামত উদ্ধার ও সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত বাসার পাশে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে জানায়, প্রতিবেশী আবির আলীই শিশুটিকে অপহরণ করেন। মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হলেও শিশুটিকে কোথাও লুকিয়ে রাখতে না পেরে তিনি শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীতে লাশটি গুমের উদ্দেশে ছয় টুকরো করে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন সুইচ গেট এলাকার একটি গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই।

তদন্তে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি ও আয়াতের জুতা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আবিরের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তা আয়াতের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবির আলীকে একমাত্র আসামি করা হয় এবং তার বাবা-মা ও বোনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা জেনেও গোপন রাখার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে পৃথক দোষীপত্র দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।

ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ