যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় খুন হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে নিজ এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইতলা ইউনিয়নের লালডোবা এলাকায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স লালডোবা গ্রামে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুরা ভিড় জমান। সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে মরদেহ লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয় এবং ৭টা ২১ মিনিটে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় ইমামতি করেন লিমনের ফুফাতো ভাই হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান।
জানাজায় অংশ নেন লিমনের পরিবারের সদস্য, জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ বিন রশিদ, মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীসহ আশপাশের এলাকার প্রায় হাজারো মানুষ।
লিমনের বাবা জহুরুল হক বলেন, আমার ছেলেকে কখনো কষ্ট দিইনি। এখন শুধু জানতে চাই— কে তাকে এত কষ্ট দিয়ে মারল? ছেলে বলত, ‘বাবা, তুমি চিন্তা করো না, একটা ব্যবসা করো।’ আমি তার হত্যাকারীদের বিচার চাই।
মা লুৎফুন হক বলেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে শেষবার ফোনে বলেছিল— ‘মা, নিজের শরীরের যত্ন নিও।’ সেই ছেলের শরীর থেকে প্রাণ কেড়ে নিল খুনিরা। আমি চাই, এই খুনিরা যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি করতে না পারে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।
ছোট ভাই জুবায়ের হোসেন বলেন, ভাই বিদেশে পড়তে গিয়ে খুন হয়েছে। খুনিরা শুধু ভাইকে নয়, আমাদের পরিবারের স্বপ্নকেও হত্যা করেছে। এমন বিচার চাই, যাতে আর কোনো ভাই বিদেশে পড়তে গিয়ে এভাবে প্রাণ না হারায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা মিয়া (৫৫) বলেন, এলাকার ছেলে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়ে খুন হলো— এটা আমাদের জন্য গভীর শোকের। সে ফিরে এলে দেশ ও গ্রামের উন্নতিতে কাজ করতে পারত। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।
আইও/