মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

রাসুলের খাদেম হযরত আনাস ইবনে মালেক আনসারি রা.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হুসাইন আহমাদ খান ।।

তিনি সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংস্পর্শে দীর্ঘকাল কাটিয়েছেন এবং তাকে কাছ থেকে দেখেছেন। হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. আল্লাহর রাসুলের খেদমত করেছেন দীর্ঘ দশ বছর । সাড়া দিয়েছেন রাসুলের যেকোন প্রয়োজনে ।এর মাধ্যমে লাভ করেছেন রাসুলের স্নেহ ও ভালোবাসা। নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন রাসুলের আমল-আখলাক ও মেজাজ-বৈশিষ্ট্য।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করে মদিনায় আসেন তখন হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.এর বয়স মাত্র দশ বছর। এই সময় তার মা হযরত উম্মে সুলাইম রুমাইসা বিনতে মিলহান রা. তাকে রাসুলের খেদমতে রেখে যান। এরপর থেকে রাসুলের ওফাত পর্যন্ত তিনি তার সেবায় নিয়োজিত থাকেন। হয়ে উঠেন নবিপরিবারের একজন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদর করে ‘উনাইস’ বলে ডাকতেন। আর কখনো কখনো ডাকতেন ‘আমার পুত্র’ বলে।

রাসুলের ওফাতের পর হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. রাসুলের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর খুব স্মৃতিচারণ করতেন। সবচেয়ে বেশি বলতেন রাসুলের সাথে তার প্রথম সাক্ষাত এবং তার বিচ্ছেদের দিনের কথা। যখন তিনি প্রথম দিনের কথা বলতেন তখন খুব গর্ববোধ করতেন এবং খুবই আনন্দিত হতেন। আর যখন ওফাতের দিনের কথা বলতেন তখন খুব কাঁদতেন এবং মানুষদেরও কাঁদাতেন।

তার জন্য আল্লাহর রাসুল দুআ করেন, ‘হে আল্লাহ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করুন এবং তাকে বরকত দান করুন।’ আল্লাহ তাআলা এই দুআ কবুল করেন। এজন্য দেখা যায়, আনসারিদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ও অধিক সন্তানের অধিকারী।তিনি শতাধিক বছর আয়ূ পেয়েছিলেন। তার মৃত্যুর সময় তার ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনির সংখ্যা ছিলো একশোরও বেশি!

হযরত আনাস ইবনে মালেক আনসারি রা. রাসুলের ইন্তিকালের পরও প্রায় আশি বছর জীবিত ছিলেন। এ সময়ে তিনি ফাতওয়া প্রদান এবং রাসুলের হাদিস বর্ণনায় মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। মানুষ যখন কোন কাজে জটিলতায় পড়তো কিংবা শরিয়তের কোন বিধান তাদের বুঝে না আসতো তখন তারা তাঁর শরণাপন্ন হতো। একইভাবে রাসুলের হাদিস অধিক বর্ণনায় তিনি ছিলেন তৃতীয়তম। তার থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২২৮৬।

তিনি ৯৩ হিজরি সনে বসরায় ইন্তিকাল করেন।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ