বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
গাজীপুরে রেল ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার ‘শরিয়তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রতিজ্ঞায় উদ্ভাসিত হোক পবিত্র ঈদুল আজহা’  ‘সিরাজগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে টার্মিনাল স্থানান্তর করার উদ্যোগ’  আল আকসায় ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল সরকারের ১০০ দিনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ই-বুক প্রকাশ মেঘনা-গোমতী সেতু: ৪৮ ঘণ্টায় ২ কোটি ৬২ লাখ টোল আদায়  ‘ঈদযাত্রা সন্তোষজনক, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন’  পাকিস্তানে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ১, আহত ১১ এবার হাজির সংখ্যা বেড়েছে ২.৪ শতাংশ ঈদের দিনে পরীক্ষা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন: কী ভাবছেন দায়িত্বশীলরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মোস্তফা ওয়াদুদ
নিউজরুম এডিটর

সরকারিভাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ পর্যায়ে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রক্রিয়া শুরু করেছে। টিকা কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও। এরই মধ্যে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স ১৮ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শেষ হলেই প্রতিষ্ঠান খুলবে, সরকারের পক্ষ থেকে এমন সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

সেই সূত্র ধরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস রোধক টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এসব মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কবে টিকা পাবেন, তা কেউ জানেন না। মাদরাসা ছাত্রদের টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে, তাও জানতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীল আলেমরা টিকা গ্রহণ করলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত, তারা এখনো ঠিক করতে পারেননি।

দেশের একাধিক মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘মাদরাসার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে বেফাক ও অন্যান্য আঞ্চলিক বোর্ডগুলোসহ কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা অথরিটি ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

তবে টিকা নেওয়ার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ কওমি মাদরাসা দারুল উলুম হাটহাজারীর মজলিসে এদারীর (পরিচালনা পরিষদ) অন্যতম সদস্য মাওলানা ইয়াহইয়া বলেন, সরকার আমাদের মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চাইলে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে কয়েক ধরনের টিকা চালু আছে। আমাদের দেশের সরকার অবশ্যই আমাদের প্রতি দয়াশীল। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তারা বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আমদানি করছে। কিন্তু যে সকল টিকার অনুমোদন রয়েছে সেটিই আমাদের প্রদান করতে হবে। এর বাইরে কোন টিকা প্রদান করতে আমরা রাজি নই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আমার মাদরাসার শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করার জন্য পর্যাপ্ত টিকা দিয়ে আমাকে জিম্মাদারী প্রদান করে, তাহলে আমি সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি। আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আমাদের বোর্ডের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করে তাহলে বোর্ড অত্যন্ত সুন্দর ডিসিপ্লিনের মাধ্যমে টিকা প্রদান করতে পারবে।’

এদিকে টিকা নেওয়ার প্রসঙ্গে আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার সদস্য ও তানযীমুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মুফতি আরশাদ রাহমানি বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত বোর্ড আল হাইয়াতুল উলিয়া আমাদের থেকে মন্তব্য জানতে চেয়েছে টিকা গ্রহণের বিষয়ে। আমরা সেখানে ছাত্রদের উৎসাহ দিয়ে মন্তব্য প্রদান করেছি। তবে সেটি চূড়ান্তভাবে প্রচার করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টিকা নেওয়ার বিষয়ে সরকার যদি হাইয়াতুল উলিয়াকে দায়িত্ব প্রদান করে, তবে সে দায়িত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালনে সক্ষম হবে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ এ অথরিটি।

ভিন্ন কথা শোনালেন দারুন নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আ.খ.ম আবু বকর সিদ্দীক। তিনি বলেন, যদি শিক্ষার্থীরা করোনার টিকা নাও নেয়, তবু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিন। কেননা করোনার থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

টিকা নেওয়ার প্রসঙ্গে মাওলানা আবু বকর সিদ্দীক বলেন, ‘আমাদের আলিয়া মাদরাসাগুলো আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। সরকার যে টিকা প্রদান প্রক্রিয়া চালু করেছে আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখান থেকেই টিকা গ্রহণ করছে। এছাড়াও সরকার যেহেতু এখন গণটিকা চালু করেছে, আর আমাদের মাদরাসাতেই এর কেন্দ্র রয়েছে। সুতরাং যে সকল শিক্ষার্থীর এখানে আছে ও নির্দিষ্ট বয়সের উপরে বা উপযুক্ত হিসেবে গণ্য, তাদের আমরা টিকা দিচ্ছি। তারা নিজেরাও নিচ্ছে।’

জানতে চাইলে বেফাকের সহ-সভাপতি ও আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন গওহরপুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাঝে যাদের বয়স ১৮ বছরের উপরে তারা প্রত্যেকেই যেনো টিকা নিয়ে নেয়, সেজন্য সবাইকে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি। আর টিকা যেহেতু প্রত্যেক ওয়ার্ডভিত্তিক দেওয়া হচ্ছে তাই ব্যক্তি উদ্যোগে টিকা নেওয়াই শ্রেয়। বোর্ডের অধীনে টিকা নেওয়ার যেসব প্রসেস করা দরকার তাতো বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বরং ব্যক্তি উদ্যোগে যতদ্রুত সম্ভব টিকা নেওয়াটা জরুরি। আর মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষকরা দেশের নাগরিক হিসেবেই টিকা নিবেন। আলাদাভাবে বোর্ডের অধীনে টিকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

এদিকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের টিকা প্রসঙ্গ এখন সরব সোশ্যাল সাইট ফেসবুকেও। ভ্যাকসিন গ্রহণের সঙ্গে মাদরাসার খোলার প্রসঙ্গ রয়েছে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সোশ্যালিস্ট সাইমুম সাদী। তিনি নিজের আইডিতে লিখেছেন, ‘ভ্যাকসিন দেওয়ার সাথে প্রতিষ্ঠান খোলার একটা সম্পর্ক আছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ছাত্রদের ভ্যাকসিন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর বড় মাপের স্কুলগুলোও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আমাদের মাদরাসাগুলোর জন্য তেমন উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছেনা।

তিনি লিখেন, ‘আমরা চাই কোনো অজুহাতে বা অসতর্কতার কারণে মাদরাসা খোলার ব্যাপারটা যেনো দীর্ঘায়িত না হয়। আমাদের মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এইক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে পারেন। নেওয়াটা উনাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সরকারের সাথে কথা বলে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী আছেন তাদের জন্য ভ্যাকসিন কনফার্ম করতে পারেন। ভ্যাকসিনের সাথে এখন অনেক কিছুই জড়িত। দেশের বাহিরে যেতে হলে ভ্যাকসিন ছাড়া ভিসা পাওয়া কঠিন হবে। ওমরাহ করার জন্য ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট লাগবে। তাও চায়না ভ্যাকসিন নয় ইউরোপীয় ভ্যাকসিন লাগবে।’

এদিকে আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করে লেখক ও অনুবাদক মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশের সকল ছোট-বড় কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জন্যে ভ্যাকসিন বরাদ্দ নিন। সুষ্ঠুভাবে সবাই ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন। এতে মাদরাসা খোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে, ইনশাআল্লাহ। চলমান পরিস্থিতিতে দেশের শত শত আলেম শিক্ষক বড় কষ্টে আছেন। আদরের সন্তানদের জীবনের অমূল্য সময় নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া মাদরাসা খোলার অন্য কোনো পথ হয়তো নেই।’

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ