সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের ‘বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছিল দেশের স্বার্থে, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়’ সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা  মুসলিম আন্দালুসের কৃষি বিপ্লব: স্বর্ণযুগের গৌরবগাথা

প্রকাশকের সুখ-দুঃখ: ‘করোনার প্রভাবে কেউ হয়তোবা ছেড়ে দিতে পারেন এই পথ’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

করোনার দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাবে লোকসানের মুখোমুখি ব্যবসা-বাণিজ্য অফিস-আদালতসহ প্রায় সব খাত।  দেশের বৃহত্তম বইয়ের বাজার ‘বাংলাবাজারে’র প্রকাশকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। বইপ্রেমীদের আনাগোনা আর বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে যেখানে সকাল থেকে রাত অবধি থাকতো ব্যস্ত দৌড়ঝাঁপ, সেখানে এখন প্রায় সময় দেখা মেলে শুনশান নিরবতা। ভিতরে প্রবেশ করলেই যেখানে আগে শোনা যেত ছাপাখানা থেকে ভেসে আসা বই ছাপানো যন্ত্রের আওয়াজ; সেখানকার চিত্র এখন অনেকটাই ভিন্ন। এর অন্যতম কারণ করোনা মহামারী থেকে সুরক্ষায় বিভিন্ন সময়ে নানা মাত্রিক বিধি নিষেধ। এর ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রকাশকদের। তাদের নানা ধরনের সুখ দুঃখের কথা তুলে ধরতে আওয়ার ইসলাম কথা বলেছে অভিজাত লাইব্রেরি কালান্তর প্রকাশনীর পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সাথে।

প্রতিবেদক নুরুদ্দীন তাসলিমের সাথে তার শেয়ার করা সুখ-দুঃখের অনুভূতিগুলো তুলে ধরা হল পাঠকের সামনে।


 

 করোনাকালে কেমন কাটছে আপনাদের সময়?

আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। কিন্তু অফিস, বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ থাকলে তো কোনোকিছু স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়। আর এমনিতে বাসায় সময় কাটছে।

রমজানের পর কওমি মাদ্রাসাগুলোর বছরের শুরুতে অনেক বড় ধরনের আয় করে থাকে প্রকাশনীগুলো। গত দু'বছর ধরে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না, এতে কি ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং তা কাটিয়ে উঠতে কি করছেন?

লোকসানের হিসাব বের করা কঠিন। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেটা কোনোভাবেই পুষিয়ে তোলা সম্ভব নয়। অনেকেই ব্যবসা বাদ দিয়েছেন, কেউ বাদ দেওয়ার চিন্তা করছেন। কারণ, ভাড়া, স্টাফ বেতন এগুলো এভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর ক্ষতি তো চলমান, কাটিয়ে ওঠার সময় কই?

প্রকাশনাগুলোর অধীনে যে লেখকরা লেখালেখি করে থাকেন দীর্ঘ লকডাউনের কারণে তাদের সম্মানী দিতে কোন ধরনের বেগ পেতে হচ্ছে কিনা?

জি, বেগ পেতে হয়েছে। সাধারণত তো আমরা ব্যবসার টাকা থেকেই বাকি কাজ করি। কিন্তু দীর্ঘদিন মন্দা বা বন্ধ থাকায় ঠিকমতো বেতন বা সম্মানী দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

বাধাই খানার গল্প এবং কাগজ কিনতে কোন ধরনের বাকি ও ঋণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন?

আমরা কাগজ বা বাঁধাইয়ের কাজ সাধারণত বাকি রেখে করি না। বাঁধাইয়ের কাজ একটা চলমান বিভাগ। তাই এখানে বাকি থাকবেই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মচারী আগের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ফেলেছেন কি, অথবা তাদের বেতন দিতে গিয়ে কোন ধরনের হিমশিম খেতে হচ্ছে কিনা যদি বলতেন?

জি, আমাদের পরিবার থেকে কয়েকজনকে বাদ দিতে হয়েছে। আর অন্য কোনোভাবে কয়েক মাসের বেতন চালিয়ে নিয়েছি। এখন এটা মনে হচ্ছে না আর সম্ভব।

দীর্ঘ লকডাউন, বারবার নতুন বিধি নিষেধ, এসবের মুখে পড়ে প্রকাশকদের কেউ এই পথ ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন কি?

প্রচুর আশঙ্কা করি। দুয়েকজন ছেড়ে দিয়েছেন বলে শুনেছি। আরও ছাড়তে পারেন। তবে কিছু প্রকাশনী আছে, যাদের নীতিনৈতিকতা বলতে কিছু নেই, এই শিল্পকে তারা খেলনার বস্তু বানিয়ে দিচ্ছেন বা শুধু ব্যবসাকেই প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছেন, এরা এই সম্মানিত সেক্টর থেকে চলে গেলে বরং খুশি হব।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ