শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে ঢাকায়  ৫ সপ্তাহ পর আল-আকসায় জুমা, মুসল্লিদের ঢল আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাদের, নমিনেশনে অগ্রাধিকার তাদের : রিজভী পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হতে পারে বিকেলে মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল, আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে বলাকা কমিউটারের যাত্রা জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল তাপমাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত, সপ্তাহের মাঝামাঝি বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে স্বস্তি আসবে বাজারে: বাণিজ্যমন্ত্রী গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন: কাবার ইমাম

প্রকাশকের সুখ-দুঃখ: ‘করোনার প্রভাবে কেউ হয়তোবা ছেড়ে দিতে পারেন এই পথ’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

করোনার দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাবে লোকসানের মুখোমুখি ব্যবসা-বাণিজ্য অফিস-আদালতসহ প্রায় সব খাত।  দেশের বৃহত্তম বইয়ের বাজার ‘বাংলাবাজারে’র প্রকাশকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। বইপ্রেমীদের আনাগোনা আর বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে যেখানে সকাল থেকে রাত অবধি থাকতো ব্যস্ত দৌড়ঝাঁপ, সেখানে এখন প্রায় সময় দেখা মেলে শুনশান নিরবতা। ভিতরে প্রবেশ করলেই যেখানে আগে শোনা যেত ছাপাখানা থেকে ভেসে আসা বই ছাপানো যন্ত্রের আওয়াজ; সেখানকার চিত্র এখন অনেকটাই ভিন্ন। এর অন্যতম কারণ করোনা মহামারী থেকে সুরক্ষায় বিভিন্ন সময়ে নানা মাত্রিক বিধি নিষেধ। এর ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রকাশকদের। তাদের নানা ধরনের সুখ দুঃখের কথা তুলে ধরতে আওয়ার ইসলাম কথা বলেছে অভিজাত লাইব্রেরি কালান্তর প্রকাশনীর পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সাথে।

প্রতিবেদক নুরুদ্দীন তাসলিমের সাথে তার শেয়ার করা সুখ-দুঃখের অনুভূতিগুলো তুলে ধরা হল পাঠকের সামনে।


 

 করোনাকালে কেমন কাটছে আপনাদের সময়?

আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। কিন্তু অফিস, বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ থাকলে তো কোনোকিছু স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়। আর এমনিতে বাসায় সময় কাটছে।

রমজানের পর কওমি মাদ্রাসাগুলোর বছরের শুরুতে অনেক বড় ধরনের আয় করে থাকে প্রকাশনীগুলো। গত দু'বছর ধরে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না, এতে কি ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং তা কাটিয়ে উঠতে কি করছেন?

লোকসানের হিসাব বের করা কঠিন। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেটা কোনোভাবেই পুষিয়ে তোলা সম্ভব নয়। অনেকেই ব্যবসা বাদ দিয়েছেন, কেউ বাদ দেওয়ার চিন্তা করছেন। কারণ, ভাড়া, স্টাফ বেতন এগুলো এভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর ক্ষতি তো চলমান, কাটিয়ে ওঠার সময় কই?

প্রকাশনাগুলোর অধীনে যে লেখকরা লেখালেখি করে থাকেন দীর্ঘ লকডাউনের কারণে তাদের সম্মানী দিতে কোন ধরনের বেগ পেতে হচ্ছে কিনা?

জি, বেগ পেতে হয়েছে। সাধারণত তো আমরা ব্যবসার টাকা থেকেই বাকি কাজ করি। কিন্তু দীর্ঘদিন মন্দা বা বন্ধ থাকায় ঠিকমতো বেতন বা সম্মানী দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

বাধাই খানার গল্প এবং কাগজ কিনতে কোন ধরনের বাকি ও ঋণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন?

আমরা কাগজ বা বাঁধাইয়ের কাজ সাধারণত বাকি রেখে করি না। বাঁধাইয়ের কাজ একটা চলমান বিভাগ। তাই এখানে বাকি থাকবেই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মচারী আগের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ফেলেছেন কি, অথবা তাদের বেতন দিতে গিয়ে কোন ধরনের হিমশিম খেতে হচ্ছে কিনা যদি বলতেন?

জি, আমাদের পরিবার থেকে কয়েকজনকে বাদ দিতে হয়েছে। আর অন্য কোনোভাবে কয়েক মাসের বেতন চালিয়ে নিয়েছি। এখন এটা মনে হচ্ছে না আর সম্ভব।

দীর্ঘ লকডাউন, বারবার নতুন বিধি নিষেধ, এসবের মুখে পড়ে প্রকাশকদের কেউ এই পথ ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন কি?

প্রচুর আশঙ্কা করি। দুয়েকজন ছেড়ে দিয়েছেন বলে শুনেছি। আরও ছাড়তে পারেন। তবে কিছু প্রকাশনী আছে, যাদের নীতিনৈতিকতা বলতে কিছু নেই, এই শিল্পকে তারা খেলনার বস্তু বানিয়ে দিচ্ছেন বা শুধু ব্যবসাকেই প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছেন, এরা এই সম্মানিত সেক্টর থেকে চলে গেলে বরং খুশি হব।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ