সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান ১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি

চাঁদনী রাত!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মাদুল্লাহ শাব্বির।।

জিলহজের দশম রজনী। বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে খুশির ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সে-ঢেউ ছোটো-বড় সবাইকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। দশ-ই জিলহজের চাঁদের জোছনা___মিষ্টি মিষ্টি, স্নিগ্ধ স্নিগ্ধ, হালকা হালকা।

নাদিম, ফাহাদ, নাদিয়া, ফারিহা শহর থেকে গ্রামে এসেছে। দাদুর বাড়িতে। ঈদ করতে। খুব মজা মজা! ভীষণ খুশি খুশি। বাগড়াহীন ছুটোছুটি। বাঁধাহীন আনন্দ আনন্দ। বাবার চোখ রাঙানি নেই। মায়ের ধমকি নেই। ছুটে বেড়ানোর কোনও সীমা নেই। স্বাধীন স্বাধীন।

রাতের আকাশ। চাঁদের স্নিগ্ধজোছনা। ঝিরঝির শীতল বাতাস। হাসনাহেনা ফুলের সৌরভ। ডাহুকের ডাক, আর পাতি শিয়ালের হাঁক, থেকে থেকে ভেসে আসা। এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন চাঁদনী রাতের পরিবেশকে আরও বিমোহিত ও বিমুগ্ধ করে তুলেছে। নাদিমদের মনে হালকা ভয় ও শিহরণ জাগিয়ে তুলছে। এতে যেন ওদের খুশির আমেজ আরও একটু বাড়িয়ে তুলেছে।

ইশার সালাত শেষ। মাষ্টার সাহেব বসে আছেন। উঠোনে। মাদুর পেতে। পেয়ারা গাছ‌ তলে। আর চার জোড়া চোখ, তাকে ঘিরে বসে আছে। মায়া মায়া চেহারা। গভীর ভাবাবেগ নিয়ে। গল্প শোনার নেশায়। বহুদিন পর নাদিমরা মাস্টার সাহেবকে বাগে পেয়েছে। ছাড়াছাড়ি নেই। পালাবার কোনও পথ নেই। গল্প বলতেই হবে___নাদিমদের আবদার। ছোট্ট ফাহিম গলা জড়িয়ে ধরেছে। ওনাকে ওঠতে-ই দেবে না। মাস্টার সাহেব সবাইকে শান্ত করলেন। গলা ঝাড়া দিলেন। পান আরেক খিলি মুখে পুরলেন। খানিকটা চুন আংগুলের মাথায় নিয়ে, মজা করে, জিহ্বার ডগায় মাখলেন। নড়েচড়ে বসলেন। গল্পের ঝাঁপি খুলে বসলেন। বললেন, "কি দাদুরা! আজ তাহলে গল্প শুনবে-ই?"
" জি দাদু!" নাদিমরা মাথা নেড়ে বলে উঠলো।

মাস্টার সাহেব পিস করে, পানের পিক ফেললেন। এরপর বলা শুরু করলেন, "আজ থেকে বহুকাল আগেকার কথা।"

"কতবছর দাদু? একশ বছর হবে দাদু?" নাদিয়া আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলো।

"না দাদু! এখন থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেকার কথা। তখন মক্কায় শুধু ধু-ধু মরু প্রান্তর ছিলো। পাথুরে পাহাড় ছিলো। আর কিছুই ছিলো না সেখানে। এমন বিরাণ ভূমিতে বাস করতেন, নবী হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম, তাঁর পুত্র শিশু নবী হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম, ও তাঁর স্ত্রী হাজেরা আলাইহিস সালাম। ও-ও আর একটা কুপ ছিলো। যমযম। তাঁরা সেখানে থাকতেন আর আল্লাহর ইবাদত করতেন।

এক রাতের কথা। সবাই ঘুমে। গভীর রাত। হযরত ইব্রাহীম আলাইহি সালামও গভীর ঘুমে। তো তিনি একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখলেন। সদা ধবধবে এক লোক। তাঁর সামনে দাঁড়ানো। আগুন্তুক হযরত ইব্রাহীম আলাইহি সালামকে বলছেন, "হে আল্লাহর খলিল! মোবারকবাদ! আপনাকে মহান আল্লাহ তাআলা ফরমান করেছেন, আপনার সবচে প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাহে কোরবানি করার জন্য!"

এমন বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখে, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ঘুম ভেঙে গেলো। আর খোদার নবীগণ যা স্বপ্ন দেখেন, তা কিন্তু অহী! তা সত্য। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ভেবে কোনো কূল পেলেন না। কোন বস্তুটা তাঁর সবচে প্র