মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হােক রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। রহমত বর্ষিত হােক উম্মতের ঐ সকল মনীষীর ওপর, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে ইলমে ওহী এবং ইসলাম নবীজির দেড় হাজার বছর পরেও আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। ঐ সকল মনীষীর মাঝে আমরা খুব নিকট অতীতে হারিয়েছি আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ রহ.কে। তিনি ছিলেন উলামায়ে কেরামের অহংকার, উপমহাদেশের শীর্ষ বুযুর্গ এবং উম্মাহর ফিকিরে নিমগ্নপ্রাণ এক ক্ষণজন্মা আলেমে দীন। বহুগুণের সমাহার ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের মাঝে। অনেক কিছুতেই স্বাতন্ত্র ছিল তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন।
তাঁর সাহচর্য গ্রহণের সুযােগ হয়ে উঠেনি। স্বল্প সংশ্রব ও একান্তজনদের বিবরণ থেকে এই মনীষীকে যেভাবে জানতে পেরেছি তাতে মনে হয়েছে তিনি অনেক কিছুতেই স্বতন্ত্র ছিলেন। তাঁর হাঁটা, কথা বলা, তাকানাে, হাসি-রসিকতা, মুতালা, কুরআন তিলাওয়াত, নামায, দোয়া, পাঠদান পদ্ধতি, একান্ত আলাপচারিতা, আন্তরিকতা ও ভালােবাসার বহিঃপ্রকাশ সব ছিল অন্যরকম বৈশিষ্ট্যের।
তিনি স্বাধীনচেতা ও উদারমনা মানুষ ছিলেন। ইলমের খেদমত, দীনী দূর্গ বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উৎসাহদান, সামাজিক উন্নতি ও খেদমতে খালকে নিয়ােজিত থাকা, সহীহ আকীদা সংরক্ষণ ও বিস্তার প্রভৃতি কাজ করাকে তিনি জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছিলেন। দেওবন্দিয়াতের নীতি ত্যাগ না করার পক্ষে ছিলেন।
তাঁর শায়খ হযরত মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর মুত্তাহিদা কওমিয়্যাত বা একজাতি তত্ত্বকে নিজের জীবনের মূলনীতি বা কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষাজীবনের শুরুতে আলিয়া মাদরাসায় পড়াশােনা করলেও তৎকালীন। মালিয়ার বুযুর্গ মাওলানা তাজাম্মুল আলী রহ.-এর তত্ত্বাবধানে তিনি ভালাে ছাত্র হয়ে ওঠেন। তিনি উলুম দেওবন্দে শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ.-এর কাছে হাদীসের ইলমের সাথে সাথে ইলমে তাসাউফও অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করলেও পরে জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগসহ বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন।
কওমী আলেমদের মাঝে যারা লেখালেখির কাজ করেন তাদের অনেকে হযরতের হাতে গড়া এব