মুফতি সৈয়দ নাছির উদ্দিন আহমদ
মুসলিম মিল্লাতের আনন্দ-উৎসবের দিন পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে এ মাসের দশম তারিখ অতি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় একটি দিন। এই তারিখে জড়িয়ে আছে ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধান কুরবানীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা।
মুসলিমজাতির জনক হযরত ইবরাহীম আ: আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য নিজের একমাত্র পুত্র হযরত ঈসমাঈল আ: এর গলায় ছুরি চালিয়ে তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রমাণ করেছিলেন। আর মহান আল্লাহ পাক ইশক, মুহব্বতের ও কুরবানীর পরীক্ষায় ইবরাহীম (আ:) কে উত্তীর্ণ করে ঈসমাঈল আ: কে প্রাণে বাঁচিয়ে দিলেন।
তাঁর স্থানে কুরবানী করিয়ে দিলেন একটি প্রাণী; সাথে সাথে হযরত ইবরাহীম আ: এর মাথায় পরিয়ে দিলেন (اني جاعلك للناس اماما) এর তাজ বা মুকুট।
আর ইবরাহীমের এ অভূতপূর্ব আনুগত্যের নিদর্শনকে কিয়ামত পর্যন্ত আগত উম্মতের মধ্যে স্মরণীয় করে রাখতে প্রবর্তন করলেন ঈদুল আজহা বা কুরবানীর ঈদ ।তবে হযরত আদম আ: দুনিয়াতে আগমন করার পর পৃথিবীতে মানুষের বসবাস যখন থেকে শুরু হয়, তখন থেকে কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হালাল প্রাণী জবাহ করার রীতি চালু ছিল। সর্বপ্রথম কুরবানী করেছিলেন হযরত আদম আ: এর পুত্রদ্বয় হাবীল এবং কাবীল।
ইরশাদ হচ্ছে; অর্থাৎ যখন তারা উভয়ে এক একটি কুরবানী পেশ করল। (সুরা মায়েদা আয়াত: ২৭) তখনকার নিয়ম অনুযায়ী আসমান থেকে আগুন এসে যেটিকে জ্বালিয়ে দেয়া হতো, মহান আল্লাহ দরবারে তা গৃহীত বা কবুল হয়েছে বলে প্রমানিত হইত। ইরশাদ হচ্ছে; ওই কুরবানী, আগুন যাকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল (আল ইমরান আয়াত ১৮৩)
উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য কুরবানী নিয়ম নীতি এ থেকে পুরোটাই আলাদা। অর্থাৎ এখনকার উম্মতের কুরবানী কবুল হওয়ার আলামত আসমান থেকে আগুন এসে জ্বালিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নয়। বরং এ উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাক কুরবানীর গোশত ও গণীমতের মালকে হালাল করে দিয়েছেন। আর কুরবানী কবুল হওয়ার নির্ভর করে ব্যক্তির নিয়ত পরিশুদ্ধতার উপর।
এরশাদ হচ্ছে, আল্লাহর নিকট কুরবানীর পশুগুলির রক্ত,গোশত পৌছয় না,বরং তাঁর কাছে পৌছে শুধুমাত্র তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হজ্ব আয়াত: ৩৭)।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন”তখন তার গোশত থেকে নিজেরাও খাও ও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও এবং তাকেও, যে নিজ অভাব প্রকাশ করে। এভাবেই আমি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা হজ্ব আয়াত: ৩৬)
নà