মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের লাশ দেশে আনার বিষয়ে ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ‘জ্বালানি সংকটে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন রপ্তানিকারকরা’ ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীর মানসিক অবস্থা বিবেচনার আহ্বান কাশ্মীরের মসজিদগুলোতে জুমার খুতবার বিষয় নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় কমিটি মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের ইন্তেকালে খিদমাতুল ইসলাম পরিষদের শোক এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সৌদি যুবরাজ ১৪ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন পীর সাহেব চরমোনাই সৌদি আরবসহ ৩১ মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিয়োগ বন্ধ করেছে এয়ার ফ্রান্স আল-আজহারের পরীক্ষায় মেধাতালিকার শীর্ষ দশে ৫ বাংলাদেশি থাইল্যান্ডে জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতায় রাজা-রানি

নবজাতকের মস্তিষ্কক্ষয়রোধে নবীজির সা. সুন্নাহ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফরহাদ খান নাঈম

নবীজির সা. বহু সুন্নাতের মধ্যে বিজ্ঞান ইতিমধ্যে যথার্থতা খুঁজে পেয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে যথার্থতা প্রমাণিত হোক বা না হোক, নবীজির সা. সুন্নাতসমূহ সবসময়ই মানবজাতির জন্য একান্ত অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। প্রত্যেক নবজাতকের জন্য তাহনিক করা তাঁর সা. একটি অন্যতম সুন্নাহ। চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে যে, নবীজির সা. এই সুন্নাহ আমলটি নবজাতকের মস্তিষ্কক্ষয়রোধে অত্যন্ত কার্যকর।

তাহনিক কী?
রাসুলুল্লাহ সা. নবজাতকের জন্য তাহনিক করাটা আবশ্যক করে দিয়েছেন। তাহনিক হলো, খেজুর চিবিয়ে নবজাতকের মুখের তালুতে আলতোভাবে মালিশ করা এবং তার মুখ খুলে দেওয়া, যাতে তার পেটে এর কিছু অংশ প্রবেশ করে।

নবীজির সা. পর থেকে আজ প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর পর বিজ্ঞান প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে, তাহনিক নবজাতকের মস্তিষ্কক্ষয় রোধ করে। বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, অপরিপক্ক নবজাতকের মুখে জেলের মতো এক ধরনের চিনির ডোজ দেওয়া হয় যা তাকে মস্তিষ্কক্ষয় থেকে সুরক্ষা দান করে।

লো ব্লাড সুগার বা হাইপোগ্লাইসিমিয়া প্রতি 10 জন অপরিপক্ক নবজাতকের মধ্যে অন্তত ১ জনকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করে। যদি তৎক্ষনাৎ এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি একটি স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এপর্যন্ত মোট ২৪২ জন নবজাতককে জেল থেরাপি দেওয়া হয়েছে; এবং এর ফলস্বরূপ চিকিৎসকগণ মন্তব্য করেছেন, নবজাতকের মস্তিষ্কক্ষয়রোধে এটিই এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা। নিউজিল্যান্ডের বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক পরিচালিত এই সফল পরীক্ষামূলক থেরাপি ও এ ব্যাপারে তাদের মন্তব্য বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল দি ল্যানসেট-এ প্রকাশিত হয়েছে।

অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জেন ও তা সহকর্মীরা বলেছেন, প্রতিটি নবজাতকের জন্য এই ডেক্সট্রোজ জেল থেরাপিতে খরচ হয় মাত্র ১ ডলার বা তার চেয়ে কিছু বেশি যা ড্রিপারের মাধ্যমে গ্লুকোজ দেওয়ার চেয়ে অনেক সহজ। এবং বর্তমানে লো ব্লাড সুগারের চিকিৎসায় চিকিৎসকগণ এই জেল থেরাপির প্রতিই বেশি ঝুঁকছেন।

লন্ডনের বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ নেইল মারলো বলেছেন, কার্যকারিতা ও সহজলভ্যতার বিচারে নবজাতকের হাইপোগ্লাইসিমিয়ার চিকিৎসায় গ্লুকোজ সেবনের ব্যবহারের চেয়ে ডেক্সট্রোজ জেল থেরাপির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে তার কাছে শক্তিশালি প্রমাণ আছে।

বিশেষজ্ঞগণ আরও বলছেন, ডেক্সট্রোজ জেল থেরাপির মতো এই সাশ্রয়ী চিকিৎসা লো ব্লাড সুগারের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নবজাতকের সংখ্যা অনেক কমিয়ে দেবে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আবিষ্কৃত নবজাতকের জন্য এই ডেক্সট্রোজ জেল থেরাপি নবীজির সা. শেখানো তাহনিকের সাথে হুবহু মিলে যায়। বিজ্ঞান এভাবেইে একে একে নবীজির সা. প্রতিটি সুন্নাহ আমলই সমর্থন করে নিচ্ছে। সূত্র: দ্যা ইসলামিক ইনফরমেশন

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ