সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের ‘বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছিল দেশের স্বার্থে, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়’ সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা  মুসলিম আন্দালুসের কৃষি বিপ্লব: স্বর্ণযুগের গৌরবগাথা শনিরআখড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার

গ্রীষ্মের দুপুর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আশিকুর রহমান।।

বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এ দুই মাস মিলে গ্রীষ্ম আসে। গ্রীষ্মের আগমনে বাংলার প্রকৃতি রুক্ষ ,বিবর্ণ ও বিশুস্ক হয়ে ওঠে। আর এই গ্রীষ্মের যথার্থ স্বরুপ ফুটে ওঠে গ্রীষ্মের দুপুরে। গ্রীষ্মের দুপুরের চিত্রটা আমাদের সকলের কাছে পরিচিত। রোদ্দুরে ঘেরা ভর দুপুরের সূর্যটা যেন অগ্নিরূপ ধারণ করে। চারদিকে সূর্যের প্রখর রোদ ,তপ্ত বাতাস, শুকনো পুকুর খাল বিল, নিঝুম প্রকৃতি।

কবির ভাষায়।
ঘাম ঝরে দরদর গ্রীষ্মের দুপুরে
খাল বিল চৌচির জল নেই পুকুরে।
মাঠে ঘাটে লোক নেই খাঁ খাঁ রোদ্দুর
পিপাসায় পথিকেরে ছাতি কাঁপে দুদ্দুর।

গ্রীষ্মের দুপুরে প্রকৃতি যেন নির্জীব হয়ে পড়ে। বৃক্ষের নরম পাতাগুলো নেতিয়ে পড়ে। তাজা ফুলগুলো লজ্জায় মুখ লুকিয়ে নেই। সবজির নধর পাতাগুলো খড়তাপে নুয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে ঘূর্ণি হাওয়ায় ধূলো উড়ে। ঝরে পড়ে গাছের হলুদ পাতা। দূর আকাশে পাখনা মেলে চিল যেন বৃষ্টিকে আহ্বান জানায়। পাতার আড়ালে ঘুঘু পাখিদের উদাস করা ডাক শোনা যায়। প্রকৃতি যেন পরিশ্রান্ত হয়ে নিঝুম মুহূর্তগুলো কাটাতে থাকে। পুকুর ঘাটে তৃষ্ণার্ত কাক ,গাছের ছায়ায় পশুপাখির নিঃশব্দ অবস্থান গ্রীষ্মের দুপুরের পরিচিত দৃশ্য।

আবার কখনও গ্রীষ্মের ঝিমধরা দুপুরে কালবৈশাখী হানা দেয়। গ্রীষ্মের দুপুরে তখন রাত নেমে আসে। আকাশ কালো হয়ে যায়। সূর্যি মামা মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যায়। তর্জন গর্জন শুরু হয় গগনে। কালবৈশাখীর ভয়াল থাবায় বৃক্ষের ডালপালাগুলো হেলে পড়ে। শুরু হয় বৃষ্টি, স্নান করে দিয়ে যায় শুষ্ক জমীন।

গ্রীষ্মের দুপুরে গ্রামের পরিবেশ একদম ঝিমিয়ে পড়ে। প্রচন্ড রোদে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে পারে না। ঘরের ভিতর অসহ্য গরম আর বাহিরের প্রচন্ড তাপদাহ। গাছের ছাঁয়ায় বসে হাতপাখা নিয়ে গরম ঘোছাবার চেষ্টা করে গ্রামের মানুষজন। বটের ছাঁয়ায় নির্গমন পথিকরা আশ্রয় খোঁজে। কেউ কেউ এই দুপুরে বৃক্ষের ছাঁয়ায় তাল পাতার পাটি বিছিয়ে বিশ্রাম খোঁজার চেষ্টা করে। গায়ের দুষ্ট ছেলেদের আমবাগানে আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের কেউ কাঁচা আম চুরি করে ভর্তা বানিয়ে খায়।

গ্রীষ্মের দুপুরে শহরের দৃশ্য অবশ্য অন্যরকম। প্রচণ্ড রোদে রাস্তার পিচ গলতে থাকে। রাস্তায় যানবাহনের চলাচল কমে আসে। গলির ঝাপঁখোলা দোকানপাটে ঝিম-ধরা ভাব। ঘরে বাহিরে কর্মের জগত হঠাৎ যেন ঝিমিয়ে আসে। অফিস পাড়ার কর্মব্যস্ততাও এই সময় একটু শিথিল হয়ে আসে। ক্লান্তি ও শ্রান্তি ঘিরে ধরে কর্মচঞ্চল জীবনপ্রবাহকে।

এইসব দোষগুণ মিলে আমাদের গ্রীষ্মের দুপুর। তাপদাহ দুপুরের প্রচণ্ড রোদে ঝিমধরা প্রকৃতিতে আমাদের জনজীবন আশ্রয় খুঁজে একটুখানি বৃষ্টির আলিঙ্গনে।

শিক্ষার্থী: জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মোহাম্মদপুর ঢাকা।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ