শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬ ।। ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৫ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটিতে কারা ঠাঁই পেলেন, দেখুন তালিকা ছুটিতেও স্মার্টফোন থেকে দূরে, পুরস্কৃত জামিয়া রশীদিয়ার আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তিতে সই করল শক্তিশালী তিন মুসলিম দেশ জাতীয় মসজিদে জুমার বয়ানে দেওবন্দের মুহতামিমের পাঁচ নসিহত প্রকৃত সুখের একমাত্র পথ ঈমান ও সৎকর্ম: মসজিদে নববীর খতিব আল্লামা আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী জুনায়েদ জামশেদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণায় মাওলানা তারিক জামিল সৎ, পরিশুদ্ধ ও আদর্শবান মানুষের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে: পীর সাহেব চরমোনাই টাওয়ার হ্যামলেটস স্পিকারের সঙ্গে সিলেট-৫ আসনের এমপির বৈঠক শায়খ আওয়ামার মোবারক সান্নিধ্যে

মোটরসাইকেল নয় গণপরিবহনকে বিকশিত করার দাবি বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে, সড়কে চলাচলকারী পথচারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি কমানো ও সিসি ১৬৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫০ সিসিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে গণপরিবহনকে বিকশিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতি ছোট্ট এই দেশে রাস্তার পরিমাণ বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মোটরসাইকেল রাস্তায় নামছে, বিপরীতে গণপরিবহন তথা বাসের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে কমছে। গণপরিবহনের এই ভুলনীতি বন্ধ না হলে অচীরেই দেশের যেকোন পথে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ৪৪ লাখ যানবাহনের বিপরীতে ৩১ লাখ মোটরসাইকেল রয়েছে। নিবন্ধনবিহীন আরও ৩ থেকে ৪ লাখ মোটরসাইকেল রাস্তায় চলছে। অথচ মোটরসাইকেল চালকদের মাত্র ১৮ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান মতে, দেশে বিদায়ী ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৬ হাজার ৭৩৬টি যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৭১টি। যা মোট আক্রান্ত যানবাহনের ২৪.৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭ হাজার ৩৫৬টি যানবাহনের মধ্যে ১ হাজার ৫৬৩টি মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। যা মোট আক্রান্ত যানবাহনের ২১.৪ শতাংশ।

এতে দেখা গেছে গত ১ বছরে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ। দেশের একমাত্র এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-মাওয়া-পাঁচ্চর জাতীয় মহাসড়ক ছাড়া অন্য কোন মহাসড়কে ১০০ কিলোমিটার গতিতে নিশ্চিন্তে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ নেই। রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান মহানগরীতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন না থাকায় ট্রাফিক আইন ভাঙার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। অন্যদিকে পঙ্গু হাসপাতালের তথ্য মতে, প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার পঙ্গু রোগী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে চীনের ৫টি মহানগরীসহ পৃথিবীর বহু দেশের প্রধান প্রধান মহানগরীতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করেছে।

দেশে মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব, যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রীসেবার মান, কর্মসংস্থানের অভাবসহ নানা কারণে মানুষ মোটরসাইকেলকে নিরাপদ বাহন ও কর্মসংস্থানের বিকল্প উপায় হিসেবে মনে করছে। অন্যদিকে অনলাইন ভিত্তিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে মোটরসাইকেল ভাড়ায় ব্যবহারের কারণে দেশের কর্মহীন বিপুল সংখ্যক যুবগোষ্ঠী ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে আয়ের পথ বেছে নিলেও কার্যত একটি আদর্শ রাষ্ট্রে গণপরিবহনকে বিকশিত করার কোন বিকল্প নেই।

তাই এইমুহূর্তে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহনের লাগাম টেনে ধরার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ