বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৩ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
গণঅভ্যুত্থান দিবসে ইফাদাতুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় খেলাফত মজলিস ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল’ দেশব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন শুক্রবারে বায়তুল মোকাররমে জুমার খুতবাপূর্ব বয়ান করবেন দেওবন্দের মুহতামিম ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ পাকিস্তানে, ব্যাপক ধরপাকড় জুলাইয়ের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান ও মাদরাসাপড়ুয়াদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা হজযাত্রীদের জন্য নতুন ছাতার নকশা আহ্বান সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের

বিদ্যুৎ নিয়ে জনগণকে বহুমুখী হয়রানী চলতে পারে না: আল্লামা কাসেমী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, গত কয়েক মাস যাবত দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহক পর্যায়ে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের জোর অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগে এই নিয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ নিয়ে জনগণকে বহুমুখী হয়রানী চলতে পারে না।

আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে গ্রাহকদের তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে পরিশোধের সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিমাসে যে পরিমাণ বিল আসে, গত এপ্রিল ও মে মাসে তার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বিল করেছে শহুরে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। আর গ্রামে প্রতিমাসে যে বিল আসে, তার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০০ টাকা যোগ করে বিল দেয়া হয়েছে। এর সাথে অনেক গ্রাহককে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাড়তি ভুতুড়ে বিল দেয়া হয়েছে।

‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকার বিল ২৫-৩০ হাজার টাকাও হয়েছে। ৩০০ টাকার বিল ১০০০ টাকা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগে ভুতুড়ে বিল নিয়ে বার বার অভিযোগ করেও কাঙ্খিত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া বিল না দিলে জরিমানা ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তার মানে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতে হলে গ্রাহককে সকল অনিয়ম ও ভুতুড়ে বিল মেনে নিয়েই সেটা পরিশোধ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, এসব ছাড়াও বিদ্যুৎ বিভাগে আরও বিভিন্ন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট চলছে। একদিকে ৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস থাকা সত্ত্বেও নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেমে নেই। অন্যদিকে রাজধানী ও কয়েকটা মহানগরী বাদে মফস্বলের জেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে সমানে লোড শেডিং চলছে। অলস বিদুৎ কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ শত শত কোটি টাকার ব্যয় যোগাতে বার বার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শুধু বিদ্যুৎ খাতেই জনগণ কি পরিমাণ হয়রানী ও জুলুমের শিকার হচ্ছে, ভাবাই যায় না।

আল্লামা কাসেমী বলেন, রাষ্ট্র একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকার যারা পরিচালনা করেন তাদেরকে জনগণের সেবক বলা হয়ে থাকে এবং তারা সবসময় জনগণের কাছে জবাব দিতে বাধ্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিধান এ রকমই। তাই জনগণের সেবার মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বা সরকার কোনোভাবেই উদাসীন থাকতে পারে না। বিদ্যুৎ খাতের চরম অনিয়ম, বার বার মূল্য বৃদ্ধি, বিল পরিশোধে কথা দিয়ে কথা না রাখা ও ভুতুড়ে বিল নিয়ে প্রচুর লেখালেখি, প্রতিবাদ ও অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এসবের কোন প্রতিকার বা সরকারী ব্যাখ্যা কোনটাই পাওয়া যাচ্ছে না। আপন গতিতেই অনিয়মগুলো চলছেই।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার জনগণের কাছে জবাবদেহিতার তাগিদ অনুভব করছে না বলেই কি সব অভিযোগ ও প্রতিবাদ উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে?

আল্লামা কাসেমী বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব দেশের জনগণের অধিকার হরণ নয়, হয়রানী করা নয়, সবকিছুতে অন্ধকারে রাখা নয়, বরং গণমানুষের ন্যায্য অধিকার, সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় সহায়তা করা। আমরা আশা করবো, সরকার তার দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ উপলব্ধিতে নিয়ে বিদ্যুৎ সঙ্কটের ন্যায্য ও জনবান্ধব সমাধানে মনোযোগী হবে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ