আওয়ার ইসলাম: জেলা লকডাউন থাকা সত্বেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বেড়তলায় প্রখ্যাত ওয়ায়েজ আল্লামা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো জনতার ঢল থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন টিটুকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে পুলিশ হেডকোয়ার্টাসেরর নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযোগ করতে বলাহয়। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার মো: আলাউদ্দিন নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা খেলাফত মজলিশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লাখো জনতার ঢল ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। চেয়েছিলাম জানাজায় যেন লোক সমাগম কম হয়। কিন্তু ওনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা এতটাই ছিল, যার কারণে হাজার-হাজার লোকের সমাগম হয়ে যায়।
তিনি বলেন, অধিক লোকের কারণে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির কথা আমরা বুঝি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমন একটা সমস্যা হবে না। কারণ যারা ঝুঁকিতে আছেন তাদেরকে তো প্রশাসন ঘরেই রেখেছেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে সরাইল উপজেলার বেড়তলায় অবস্থিত জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিকে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্উএনও) এএসএম মোসা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহদাৎ হোসেন টিটু জানান, সরাইলের ছয়টি গ্রামের বেশিরভাগ লোক অংশ গ্রহণ করেছিল বলে আমাদের কাছে খবর আছে। তাই ছয়টি গ্রাম বেড়তলা, বলিবাড়ী, সিতাহরন, শান্তিনগর, মৈশার, টিঘর গ্রাম লকডাউন করা হয়।
আগামীকাল থেকে এই গ্রামের মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। এক গ্রাম থেকে অন্যগ্রামে যেতে পারবেন না। বাজারে যেতে পারবেন না। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পুলিশেকে সহযোগিতা করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলার আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন বেশি অংশ নিয়েছে ওই জানাজায়। ওই সব গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। যেন ওই গ্রাম গুলোর লোকজন ঘর থেকে না বের হতে পারেন সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
-এটি