শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
অবশেষে ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘অন্যায়-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলে পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হবে’ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হামলায় বিকৃত হয়ে গেছে মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল! হাজিদের সেবায় সুনাম কুড়াচ্ছে আল-মিনহাজ হজ ট্রাভেলস পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি

জীবদ্দশায় বা মরণোত্তর দেহ-অঙ্গ দান, ইসলাম কী বলে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতী আবু তাহের মিসবাহ।।

জিজ্ঞাসা: জীবদ্দশায় বা মরণোত্তর নিজের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অন্যকে দেয়া জায়েজ আছে কি?

উত্তর: ইসলামি শরিয়তে মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মালিক সে নিজে নয়। এর মালিক আল্লাহ তায়ালা। সে জন্য কারো জন্যই নিজের রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয় করা জায়েজ নয়। রক্ত দান করা যায়, এটা জায়েজ আছে। কিন্তু বিক্রয় করা হারাম। চক্ষু বা অন্যান্য অঙ্গ দান সাধারণত জায়েজ নয়।

কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যুই মানুষের শেষ নয়। এরপরও তার পুনরুত্থান ও পরকালীন জীবন আছে। তাছাড়া মৃত ব্যক্তির প্রচ্ছন্ন একটি অনুভূতি শক্তিও থাকে। সে আশেপাশের লোকজনকে বুঝতে পারে। শরিয়ত বিরোধী কাজ, বেপর্দা, সীমাতিরিক্ত বিলাপ, কান্নাকাটি তাকে কষ্ট দেয়। জোরে নড়াচড়া, অধিক ঠাণ্ডা বা অধিক গরম পানি ব্যবহারে তার কষ্ট হয়। জানাজা নিয়ে বেশি ছুটাছুটি, ঝাঁকুনি ও আঘাত সে অনুভব করে। কবর থেকে লোকজন চলে যাওয়ার সময় সে পায়ের আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পায়।

এমন একজন মৃত ব্যক্তির সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যদি সে দান করে যায় আর মৃত্যুর পরই ছয় ঘন্টার মধ্যে ডাক্তার এসে তার চোখ খুলে নেয়, হার্ট খুলে নেয়, লিভার খুলে নেয়, তাতে মৃত ব্যক্তির কী পরিমাণ কষ্ট হবে, তার বলার অপেক্ষা রাখেনা। উন্নত বিশ্বে এখন শরীরের ভেতর বাহিরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গই ব্যবহার যোগ্য।

এমতাবস্থায় শরীরের সব অঙ্গ খুলে নিয়ে গেলে দাফন করা হবে কাকে? এ অবস্থাটি মৃত ব্যক্তির জন্য কী পরিমাণ কষ্টের হবে? আর তার স্ত্রী পুত্র কন্যা ও সকল আত্মীয়ের জন্য কতটুকু বেদনার হবে তা ভেবে দেখা দরকার। এ জন্যই শরিয়ত এসব দান সমর্থন করে না। একান্ত ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মাসআলা যদি সামনে আসে তাহলে সবদিক বিবেচনা করে মুফতিগণ সুনির্দিষ্ট ফতোয়া দিতে পারেন।

সূত্র: সূরা বাকারাহ ২৬০ আয়াত, সূরা বনী ইসরাইল ৪৯,৯৮। জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিকহ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ।

উত্তর দিয়েছেন, মুফতী আবু তাহের মিসবাহ, প্রধান মুফতী, ফতোয়া বিভাগ, মাদানি ইসলামিক ইন্সটিটিউট, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ