শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
অবশেষে ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘অন্যায়-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলে পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হবে’ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হামলায় বিকৃত হয়ে গেছে মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল! হাজিদের সেবায় সুনাম কুড়াচ্ছে আল-মিনহাজ হজ ট্রাভেলস পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি

পেশাদার ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া ও মসজিদে কালেকশন প্রসঙ্গে ফতোয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

উবায়দুল্লাহ আসআদ কাসেমি ।।

জৈনক ব্যক্তি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ইফতা বিভাগে জানতে চেয়েছেন, বাজার-ঘাটে কিছু লোক ভিক্ষা চায়,তা হলে কি ইসলাম ভিক্ষা করার অনুমতি প্রদান করে? আরো কিছু লোক মসজিদেও চাঁদা কালেকশন করে, এমন করা কি বৈধ আছে? জানিয়ে বাধিত করবেন!

এ প্রশ্নের উত্তরে দারুল ইফতা জানিয়েছে, যে ব্যক্তির কাছে একদিন সকাল-সন্ধ্যার খাদ্যের ব্যবস্থা রয়েছে, তাকে ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিষেধ করে।

হজরত সাহল ইবনুল হানজালিয়া রা. থেকে বর্ণিত আছে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির কাছে একদিনের সকাল-সন্ধ্যার খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে, তারপরেও যদি সে ভিক্ষাবৃত্তি করে, তাহলে সে যেন জাহান্নামের আগুন একত্রিত করছে।

ইমামে আজম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ বলেন; এমন ব্যক্তির জন্য ভিক্ষাবৃত্তি করা বৈধ নয়। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে; যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভিক্ষাবৃত্তি করে, যেমন সে জাহান্নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ একত্রিত করছে। এখন তার ইচ্ছা; বেশি একত্রিত করুক বা স্বল্প করুক। ( মিশকাতুল মাসাবিহ)

অন্যদিকে ইসলাম সম্পদশালী ব্যক্তিদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছে, তারা যেন অভাবগ্রস্ত লোকদের অবস্থার অনুসন্ধান করেন এবং তাদের প্রয়োজন পূরণের চিন্তা করেন।

অতএব, রাস্তাঘাট এবং হাটে-বাজারে যেসব লোক পেশাদারী হিসাবে ভিক্ষাবৃত্তি করে থাকে, ভিক্ষাবৃত্তিকে তারা পেশা বানিয়েছে, তাদেরকে ভিক্ষা না দিলে কোন পাপ হবে না। আর যদি আলামত-নিদর্শন দ্বারা বুঝা যায় যে, সে সত্যিই অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি ভিক্ষা করছে, তাহলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সাহায্য করা উচিত।

[caption id="attachment_175956" align="aligncenter" width="300"] বই কিনতে ক্লিক করুন[/caption]

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে আদম সন্তান! তুমি ব্যয় করো, আমি তোমার উপর ব্যয় করবো। কুরআনে কারিমের আয়াতেও আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ভিক্ষুককে তাড়িয়ে দিও না। আর যদি কিছু দেয়ার তৌফিক না থাকে, তাহলে নম্রতার সাথে ওজর পেশ করো।

মসজিদের নিজের জন্য ভিক্ষা করা বৈধ নয়, অবশ্য কোনো কল্যাণের কাজে চাঁদা উত্তোলনের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে ঘোষণা করে দেয়া অথবা নেহায়েত অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য অন্য ব্যক্তি মানুষকে অবহিত করলে এর বৈধতা রয়েছে। কিন্তু মসজিদে এমন চাঁদা উঠানো, যাতে মানুষের ঘাড়ের উপর দিয়ে যেতে হয় এবং নামাজি এবং তেলাওয়াতকারীদের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় অথবা নামাজির সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করতে হয়, বৈধ নয়। এমন চাঁদা মসজিদের দরজায় করার অবকাশ রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা-ই ভালো জানেন।

ফতোয়া প্রদানে- ইফতা বিভাগ, দারুল উলুম দেওবন্দ। ৩০ এপ্রিল ২০০৭খ্রিষ্টাব্দ।

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ