শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে এনসিপি ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার

স্মার্টকার্ড বিরম্বনা: শেষ কোথায়!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: এক বছরের মধ্যে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) বিতরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের অক্টোবরে কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই বছরের ৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কার্ডও বিতরণ করতে পারেনি ইসি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্মার্টকার্ড বিতরণে যেভাবে সময় নেয়া হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে ২০১১ সালের সেই ৯ কোটি ভোটারের কার্ড সরবরাহ করতেই লেগে যাবে আরো ৬ বছর। অর্থাৎ নয় বছরের আগে (২০২৫ সাল) তাদের কার্ড পাবার সম্ভাবনা খুব কম।

এদিকে নতুন ভোটারদের কার্ড পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। আইডিয়া প্রকল্পের বাইরেও প্রতিদিন নতুন নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে ভোটার রয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৪৮ লাখের মতো। এ অবস্থায় নতুন ভোটারদের কার্ড পেতে আরো বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আইডিয়া নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। এ প্রকল্পের অধীনে ২০১৫ সালে ফ্রান্সের অবার্থার টেকনোলজিজ নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়। সেখানে ১৮ মাসের মধ্যে ৯ কোটি স্মার্টকার্ড প্রস্তুত করে দেয়ার কথা ছিল কোম্পানিটির। কার্ড প্রস্তুত করার একপর্যায়ে ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বিতরণ কার্যক্রমে যায় ইসি। তখন থেকে ৩৬ মাসে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার। আর ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার স্মার্টকার্ড এখনো বিতরণ করা হয়নি।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লাখ। আর ৪ কোটি ৪০ লাখ কার্ড এখনো প্রস্তুতই করা হয়নি। অর্থাৎ নাগরিকের তথ্য সেসব কার্ডে ইনপুট দেয়া হয়নি এখনও। এরমধ্যে আবার এক কোটি ৩০ লাখ কার্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এখনো হাতে পায়নি ইসি। এদিকে, আইডিয়া প্রকল্পের বাইরেও প্রতিদিন নতুন নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে ভোটার রয়েছে ১০ কোটি ৪৮ লাখের মতো।

এ অবস্থায় নতুন ভোটারদের কার্ড পেতে আরো বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। কেননা, নতুন ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্য ইসির কাছে কোনো অর্থ নেই। ইসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্মার্টকার্ড পেতে এভাবে দেরি হলে, যে সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ কার্ডগুলো দেয়া হচ্ছে, তার সুফল আর বাকি থাকবে না। কেননা, সেবাদানকারী সংস্থাগুলো এ কার্ডের ভিত্তিতে সেবা কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে ২৫ ধরনের সেবা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, নতুন ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্য এবং এটি চলমান রাখার জন্য ইসি নতুন আরেকটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। সরকারের তহবিল থেকেই ওই প্রকল্পের অর্থের যোগান দেয়া হবে।

স্মার্টকার্ড বিতরণে বিলম্বের বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক বলেন, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সময়মতো কার্ড হস্তান্তর করতে পারেনি বলেই এ বিলম্ব হচ্ছে। তবে কার্ড বিতরণ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

-ওএএফ/আরএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ